সুনামগঞ্জে পরকীয়ায় বাধা দেয়ায় ছেলে সোয়াইবুর রহমানকে হত্যার দায়ে মাসহ দুইজনের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এছাড়াও দণ্ডপ্রাপ্তদের ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে সুনামগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদলতের বিচারক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন এ রায় দেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- জগন্নাথপুর উপজেলার চিতুলিয়া গ্রামের আলকাছ আলীর ছেলে বারিক মিয়া ও একই গ্রামের রফিকুল ইসলামের স্ত্রী সিতারা বেগম।
আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১২ সালে জগন্নাথপুর চিতুলিয়া গ্রামের প্রবাসী রফিকুল ইসলামের স্ত্রী সিতারা বেগম একই গ্রামের বারিক মিয়ার সঙ্গে অবৈধ সর্ম্পক গড়ে তুলে। এ ঘটনায় স্বামী রফিকুল ইসলাম বিদেশ থেকে অনেকবার স্ত্রীকে সাবধান করেন। পরে সিতারা বেগমের বড় ছেলে সোয়াইবুর রহমান তার মাকে সতর্ক করে এবং পরকীয়ার ঘটনা বাবা রফিকুল ইসলামকে জানিয়ে দেয়ার ভয়ভীতি দেখায়। ২০১৪ সালের ১২ অক্টোবর সোয়াইবুরকে চিতুলিয়া হাফিজিয়া মাদরাসার পেছনে নিয়ে বারিক মিয়া ও রফিকুল ইসলামের ছোট ছেলে সাবুল মিয়া শ্বাসরোধে হত্যা করে। পরে মরদেহ মাদরাসার বাথরুমের ট্যাংকিতে ফেলে দেয়। পরে বারিক মিয়া ও সাবুল মিয়া সিতারা বেগমকে গিয়ে সোয়াইবুরকে হত্যার কথা জানায়। এ সময় সিতারা বেগম সোয়াইবুর রহমানকে খোঁজার নাটক করে। পরে পুলিশি তল্লাশিতে ও স্থানীয়দের তথ্য মতে বারিক মিয়াকে পুলিশ গ্রেফতার করে। এ সময় বারিক মিয়া খুনের ঘটনা স্বীকার করেন।
এদিকে এ হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি সিতারা বেগম বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। এছাড়াও শিশু আসামি সাবুল মিয়ার বিচার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালে চলছে।
এ ব্যাপারে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সুহেল আহমদ ছইল মিয়া বলেন, পরীকয়ার কথা জেনে যাওয়ায় নিজের সন্তানকে হত্যার পরিকল্পনা করেন সিতারা বেগম ও বারিক মিয়া। তাদেরকে আদালত মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন।
মোসাইদ রাহাত/আরএআর/এমএস