কুমিল্লা নগরবাসীর কাছে রীতিমতো আতঙ্ক ছিল তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী বেলাল ওরফে জিরা সুমন। ফলে তার মৃত্যুর সংবাদে জনমনে স্বস্তি ফিরে এসেছে। জানা গেছে, ছিচকে ছিনতাইকারী থেকে তার নাম উঠে আসে শীর্ষ সন্ত্রাসীর তালিকায়। প্রকাশ্যে সিনেমা স্টাইলে ডিবির এসআই ফিরোজ হোসেনকে গুলি ও কুপিয়ে আহত করে অস্ত্র লুটে নেয়ার পর তাকে নিয়ে দেশব্যাপি তোলপাড় সৃষ্টি হয়। তাকে আটক করতে ডিবি ও থানা পুলিশের কয়েকটি দল বিভিন্ন জেলায় অভিযান চালায়। কিন্তু ফলাফল ছিল শূন্য। এরই মধ্যে ২ ডজন মামলার আসামি হয়েও পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে একাধিকবার নগরীতে আসে জিরা সুমন। গোপনে সে নিয়ন্ত্রণ করতো জিরা বাহিনী। তাকে আটক করতে পুলিশের চেষ্টারও অন্ত ছিল না। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি তার। মঙ্গলবার দিবাগত মধ্য রাতে ডিবি পুলিশের সঙ্গে গুলি বিনিময়ে নিহতের পর জিরা সুমন অধ্যায়ের সূচনা ঘটে। জিরা সুমন নিহত হওয়ার খবরে তার এলাকার লোকজন ছাড়াও নগরীতে স্বস্তি নেমে এসেছে। ডিবি পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) শাহ কামাল আকন্দ জাগো নিউজকে জানান, কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আলী আশরাফের নেতৃত্বে ডিবির একটি দল ব্রাহ্মণপাড়া থেকে অভিযান চালিয়ে গভীর রাতে শহরে ফিরছিল। পথে কুমিল্লা-বুড়িচং সড়কের পালপাড়া ব্রিজের নিকট জিরা সুমন তার সহযোগীদের নিয়ে পুলিশের গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এ সময় পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে সন্ত্রাসী জিরা সুমন আহত হয়। তাকে কুমেক হাসপাতালে নেয়ার পর ডাক্তার মৃত ঘোষণা করেন। এদিকে গুলি বিনিময়ে জিরা সুমন নিহতের ঘটনায় বুধবার বেলা ১১ টায় পুলিশের পক্ষ থেকে সাংবাদিকদের প্রেস বিফ্রিং দেয়ার কথা রয়েছে। এর আগে গত বছরের ৬ নভেম্বর দুপুরে কুমিল্লা মহানগরীর ঝাউতলায় সন্ত্রাসী জিরা সুমনকে আটক করতে গিয়ে গুলিতে আহত হন ডিবির এসআই ফিরোজ হোসেন। এ সময় গুলিবিদ্ধ এসআই ফিরোজের সরকারীর পিস্তল লুটে নেয় জিরা বাহিনী। পরে ডিবি ও থানা পুলিশের কয়েকটি দল জিরা বাহিনীকে আটক করতে মাঠে অভিযান শুরু করে। এদিকে ৯ নভেম্বর সকালে সদর উপজেলার আলেখারচর এলাকায় জিরা সুমনের সহযোগীদের আটক করতে গিয়ে ডিবি পুলিশের সঙ্গে সন্ত্রাসীদের গুলি বিনিময়ের সময় নিহত হয় জিরা সুমনের সহযোগী তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী নগরীর দৌলতপুরের বাবুলের ছেলে রাব্বী (২০), অশোকতলার মৃত কালু মিয়ার ছেলে জনি (২৫)। কিন্তু তাদের পরিবার তখন মরদেহ গ্রহণ না করায় তা আঞ্জুমানে হস্তান্তর করার পর বেওয়াারিশ হিসেবে দাফন করা হয়। নিহতের আগেই সন্ত্রাস-ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে রাব্বী জড়িত হয়ে পড়ায় এবং ভাল পথে আনতে ব্যর্থ হয়ে ১০ বছর আগে তাকে পরিবার থেকে ত্যাজ্য করেছিল। তাই তার মরদেহ গ্রহণ করেনি পরিবার। তবে জিরা সুমন, তার সহযোগী রাব্বী ও জনি নিহত হলেও জিরা বাহিনীর আরো অন্তত ১০/১২ জন সদস্য সক্রিয় রয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। কামাল উদ্দিন/এসএস/এমএস