দেশজুড়ে

সেই স্কুলের ভবন হচ্ছে, বদলে যাচ্ছে চিত্র

শরীয়তপুর সদর উপজেলার ডোমসার ইউনিয়নের চর ডোমসার বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণের জন্য এক লাখ টাকা দিয়েছেন শরীয়তপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য ইকবাল হোসেন অপু। বৃহস্পতিবার ওই টাকা স্কুল কর্তৃপক্ষকে দেয়া হয়েছে।

এছাড়াও শরীয়তপুর জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিদ্যালয়টিতে ৮ বাধ টিন ও ৪৪ হাজার টাকা অনুদান দেয়া হয়েছে। অন্যদিকে বিদ্যালয়ের সভাপতি বাবুল তালুকদার আগামী রোববার চার হাজার ইট দিবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন।

এর আগে গত ২১ এপ্রিল ‘গাছতলায় পাঠদান, বৃষ্টি নামলেই ছুটি’ শিরোনামে শীর্ষ অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে সংবাদ প্রকাশ হয়। সংবাদটি নজরে পড়ে হাইকোর্টের আইনজীবী এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমনের। পরে ২৩ এপ্রিল মঙ্গলবার সকালে তিনি চর ডোমসার বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি পরিদর্শনে আসেন। সেখানে তিনি গাছতলায় ক্লাস করা শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নিয়ে ফেসবুক লাইভও করেন। এক মাসের মধ্যে কর্তৃপক্ষ স্কুল ভবন নির্মাণ না করলে ঢাকা থেকে এসে সহযোগিতা করে কাজটি করে দেবেন বলেও তিনি ঘোষণা দিয়ে যান। এরই মধ্যে স্থানীয় জনপ্রতিধি ও প্রশাসন স্কুলের ভবন নির্মানে এগিয়ে এসেছে।

শরীয়তপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাহাবুর রহমান শেখ জাগো নিউজকে বলেন, এমপি মহোদয় আমার মাধ্যমে চর ডোমসার বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবনের জন্য এক লাখ টাকা দিয়েছেন। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও টিন ও আর্থিক সহযোগিতা করা হয়েছে। আমি স্কুলটি দুইবার পরিদর্শন করেছি। ইতিমধ্যে স্কুলটির ভবনের কাজ শুরু হয়ে গেছে। স্কুলটির ভবন ও জাতীয়করণ করতে জেলা প্রশাসন সর্বাধিক সহযোগিতা করবে।

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ফারজানা আক্তার বলেন, সবাই এগিয়ে এসেছে বলেই স্কুলটি নতুন রুপ নিচ্ছে। তবে ভবনের সঙ্গে সঙ্গে সরকার যদি স্কুলটি জাতীয়করণ করে দিত তাহলে ভালো হতো। জাগো নিউজ আমাদের স্কুলের সংবাদ প্রকাশ না করলে এতো দ্রুত স্কুলের ভবনের কাজ শুরু হতো না।

প্রসঙ্গত, শরীয়তপুর সদর উপজেলার ডোমসার ইউনিয়নের চর ডোমসার, ভাসকদ্দি ও বেদেপল্লী গ্রামে স্কুল না থাকা গ্রামগুলোর মানুষের কথা চিন্তা করে ১৯৭০ সালে স্থানীয় সিরাজুল হক মোল্লা বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেন। পরে ২০০৩ সাল থেকে বিদ্যালয়টিতে নিয়মিতভাবে পাঠদান শুরু হয়। গত ৬ এপ্রিল (শনিবার) সন্ধ্যায় কালবৈশাখী ঝড়ে বিদ্যালয়ের টিনের ঘরটি লণ্ডভণ্ড হয়ে উড়ে যায়। সেই থেকে খোলা আকাশের নিচে গাছতলায় ক্লাস করতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। বিদ্যালয়ে বর্তমানে শিক্ষার্থী রয়েছে ১৫০ জন। শিক্ষক আছেন মাত্র তিনজন ।

ছগির হোসেন/আরএআর/পিআর