লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলায় সৎ মেয়েকে ধর্ষণ ও আত্মহত্যার প্ররোচণার দায়ে ইয়াকুব আলী (৪৫) নামে একজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
রোববার রাতে বুড়িমারী ইউনিয়নের জিরো পয়েন্ট এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে পাটগ্রাম থানা পুলিশ। গ্রেফতার ইয়াকুব আলী উপজেলার বুড়িমারী ইউনিয়নের মুখলীবাড়ী গ্রামের মৃত নাসির উদ্দিনের ছেলে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দুই মেয়েসহ বিধবা মিনু বেগমকে বিয়ে করে ইয়াকুব আলী। বিয়ের পর দুই মেয়ের মধ্যে এক মেয়েকে বিয়ে দিয়ে দেয়। ছোট মেয়ে ও স্ত্রীকে নিয়ে নিজ বাড়িতে বসবাস করত সে। গত বছরের ২০ এপ্রিল মিনু বেগমকে মারধর করলে তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। এই সুযোগে লম্পট ইয়াকুব আলী পাশের ঘরে ছোট মেয়েকে (১৬) ধর্ষণ করে। পরে মিনু বেগমের জ্ঞান ফিরলে মেয়ের কান্না শুনে কারণ জানতে চাইলে কোনো উত্তর না দিয়ে কীটনাশক পান করে সে।
এ সময় আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে পাটগ্রাম স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে ওই রাতেই মেয়েটির মৃত্যু হয়। পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে পাঠিয়ে রংপুর কোতোয়ালি থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করে।
পরে মর্গের চিকিৎসকরা আত্মহত্যার আগে মেয়েটিকে ধর্ষণের আলামত পেয়ে সিআইডিতে প্রতিবেদন পাঠান। রিপোর্ট পর্যালোচনা করে সিআইডি পাটগ্রাম থানাকে শনিবার (২৭ এপ্রিল ২০১৯) চিঠি পাঠিয়ে ধর্ষণ ও আত্মহত্যার প্ররোচণার দায়ে মামলা নিতে বলে।
এ রিপোর্টের প্রেক্ষিতে পাটগ্রাম থানা পুলিশ বাবা ইয়াকুব আলী ও মা মিনু বেগমকে রোববার (২৮ এপ্রিল) থানায় ডেকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করে। এতে মিনু বেগম মেয়েকে ধর্ষণের দায়ে স্বামী ইয়াকুব আলীর বিরুদ্ধে পাটগ্রাম থানায় মামলা দায়ের করেন। সেই মামলায় সন্ধ্যায় ইয়াকুব আলীকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
পাটগ্রাম থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনছুর আলী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, মর্গের রিপোর্ট ও মেয়ের মায়ের অভিযোগে ইয়াকুব আলীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
রবিউল হাসান/এফএ/এমকেএইচ