দেশজুড়ে

৩ মাসে ফাটল ধরা ভবনটি দেখতে গেল দুদক

শরীয়তপুর সদর উপজেলার ৪১নং চরযাদবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন করেছে দুদকের ফরিদপুর টিম। মঙ্গলবার দুপুরে দুদকের টিম বিদ্যালয়টি পরিদর্শনে যায়।

ফরিদপুর দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সহকারী পরিচালক শাহরিয়ার জামিল, আবু সাইদ, সহকারী পরিদর্শক মো. সায়েদুর রহমান ও শরীয়তপুর জেলা দুর্নীতি পরিষদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক বিল্লাল হোসেন খান ওই বিদ্যালয় পরিদর্শনে যান।

দুদকের সহকারী পরিচালক আবু সাইদ বলেন, শরীয়তপুর সদর উপজেলার ৪১নং চরযাদবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নতুন ভবনে ফাটল, ফ্লোরের পলেস্তারা উঠে যাওয়া, ভিম নষ্ট হয়ে যাওয়ার সংবাদটি অনলাইন সংবাদ মাধ্যমে দেখতে পান দুদকের কর্মকর্তারা।

পরে দুদকের কার্যালয় থেকে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে দেয়া হয়। মঙ্গলবার বিদ্যালয় পরিদর্শন এবং বিদ্যালয় ভবনের ছবি তুলে নিয়েছে দুদকের তদন্ত কমিটি। এ বিষয়ে শরীয়তপুর সদর উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলীর সঙ্গে আলোচনা করে তার কাছ থেকে তথ্য নেয়া হয়েছে। তথ্যগুলো প্রতিবেদন আকারে দুদকের প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো হবে।

তিনি আরও বলেন, বিদ্যালয়ের কাজে ঠিকাদার ব্যাপক অনিয়ম করেছে বলেই নতুন ভবনে ফাটল, মেঝের ফ্লোরের পলেস্তারা উঠে গেছে। সেই সঙ্গে ভিম নষ্ট হয়ে গেছে এবং দেয়ালে ফাটল ধরেছে।

‘৩ মাসেই ফেটে গেল ৭৩ লাখ টাকার ভবন’ শিরোনামে গতকাল রোববার জাগোনিউজ২৪.কমে সংবাদ প্রকাশ হয়। সংবাদটি নজরে পরে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ ও এলজিইডির সদর উপজেলা প্রকৌশলী মোহাম্মদ শাহ আলম মিয়ার। তারা সোমবার বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করেন। পরিদর্শন শেষে তারা বলেছেন কাজে ঠিকাদারের গাফলতি ছিল। ঠিকাদারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। নতুন ভবনটি এলজিইডিকে এখনো বুঝিয়ে দেয়নি। এরই মধ্যে বিদ্যালয়টি পরিদর্শনে গেল দুদক।

প্রসঙ্গত, শরীয়তপুর সদর উপজেলার আংগারিয়া ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডে ৪১নং চরযাদবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি স্থানীয় পাঞ্জু শিকদার ১৯২৩ সালে প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৭৩ সালে বিদ্যালয়টি জাতীয়করণ করা হয়। টিনশেড মূল ভবনের পাশে প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন প্রকল্প-৩-এর আওতায় ২০১৭ সালে এলজিইডি বিভাগ ৭৩ লাখ ৮৮ হাজার ৪০০ টাকা ব্যয়ে একটি নতুন ভবন নির্মাণের কাজ শুরু করে। চারতলা ভবনটির একতলার নির্মাণকাজ শেষ হয় ২০১৮ সালে। ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে স্কুল কর্তৃপক্ষকে চার কক্ষের ভবনটি বুঝিয়ে দেয় ঠিকাদার। বুঝিয়ে দেয়ার পর থেকেই ভবনটির বিভিন্ন অংশে ফাটল দেখা দেয়। মেসার্স আব্দুল মান্নান লস্কর নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ভবনটি নির্মাণের কাজ পায়। পরে কাজটি মেসার্স সোহেল খান ট্রেডার্স এর কাছে বিক্রি করেন।

নির্মাণের তিন মাসের মাথায় বিদ্যালয় ভবনের বিভিন্ন অংশে ফাটল ধরেছে। তবু ঝুঁকি নিয়ে ওই ভবনে চলছে পাঠদান। যেকোনো সময় ভবনটি ধসে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছে স্কুল কর্তৃপক্ষ।

প্রতিটি জানালার কলামে বড় বড় ফাটল। মেঝের ফ্লোরের পলেস্তারা উঠে গেছে। সিঁড়ি ফেটে আলাদা হয়ে গেছে। ভবনের দেয়ালেও রয়েছে অসংখ্য ফাটল। ভবনের বারান্দার গ্রিলগুলোতে বাঁশের স্টিক দিয়ে ফিক দেয়া হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ৪১নং চরযাদবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বর্তমানে শিক্ষার্থী রয়েছে ১৩৮ জন। শিক্ষক আছেন চারজন।

মো. ছগির হোসেন/এএম/এমএস