ভোলার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. নুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতা ও নিষ্ঠুরতার অভিযোগ তুলে তার বিচার দাবিতে প্রতিবাদ সভা ও মানববন্ধন করেছে জেলা বিচার বিভাগীয় কর্মচারী অ্যাসোসিয়েশন। বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে জেলা জজ আদালতের সামনের সড়কে এ কর্মসূচি পালিত হয়।
প্রতিবাদ সভা ও মানববন্ধনে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ বিচার বিভাগীয় কর্মচারী অ্যাসোসিয়েশনের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ও ভোলা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক নাজিম উদ্দিন, ভোলা জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক আক্তার হোসেনসহ প্রমুখ।
এ সময় তারা বলেন, ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. সোহেল ফরাজির পাঁচ মাসের প্রসূতি স্ত্রী গত মঙ্গলবার গুরুতর অসুস্থ হয়ে বরিশালের একটি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। খবর পেয়ে সোহেল অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. নুরুল ইসলামের কাছে ছুটির আবেদন করেন। এ সময় জজ নুরুল ইসলাম সোহেলকে ছুটি না দিয়ে উল্টো তার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন। পরদিন বুধবারও সোহেল ছুটি চাইলে তাকে ছুটি দেয়া হয়নি। ফলে অসুস্থ স্ত্রীর পাশে গিয়ে চিকিৎসার করাতে পারেনি সোহেল। যার কারণে গতাকাল বুধবার রাতে বেঞ্চ সহাকারী সোহেল ফরাজির জমজ ছেলে সন্তান জন্ম নেয়ার পর মারা যায়।
চরফ্যাশন উপজেলার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. সোহেল ফরাজি বলেন, ছুটি না পাওয়ায় আমি আমার স্ত্রীর পাশে দাঁড়াতে পারেনি। সঠিক সময়ে সু-চিকিৎসা না পাওয়ায় আমার সন্তানের মৃত্যু হয়েছে। আমি অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ নুরুল ইসলামের বিচার দাবি করছি।
তিনি আরও বলেন, এর আগেও আমি ছুটি চাইলে তিনি আমাকে ছুটি দেননি। তিনি আমাকে বলেন- ছুটি দেয়া হবে না। আমার অনুমতি ছাড়া যদি কোথায় যাও, তাহলে তোমাকে শোকজ করা হবে।
এ ব্যাপারে অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ নুরুল ইসলাম মোবাইল ফোনে জানান, বেঞ্চ সহকারী সোহেলের জমজ সন্তানের মৃত্যুতে তিনি মর্মাহত। তবে ওই মৃত্যুর জন্য তিনি দায়ী নন।
তিনি আরও জানান, সোহেল ছুটি না নিয়েই বুধবার রাতে চলে গেছে। বিগত দিনেও সে প্রায়ই স্টেশন লিভ করতো।
জুয়েল সাহা বিকাশ/আরএআর/এমকেএইচ