খেলাধুলা

বিশ্বকাপের ৬ দলেরই রয়েছে চার শতাধিক রান

কারো কাছে ক্রিকেট কেবলই রানের খেলা। ব্যাটসম্যানরা যখন বল সীমানাছাড়া করেন তখন তারা তাতে খুঁজে পান তৃপ্তি। কেউ কেউ হয়ত তৃপ্তি পান পেসারদের গতি আর স্পিনারদের ‍ঘূর্নিতেও।

তবে ক্রিকেটে রানের ফোয়ারা দেখতে চান এমন সমর্থকের সংখ্যাই বেশি। দুয়ারে যখন কড়া নাড়ছে ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় মহারণ। সেখানে ব্যাটসম্যানদের কাছে প্রত্যাশাও বেশি।

আজ জেনে নেওয়া যাক এখন পর্যন্ত কোন দলের দলীয়ভাবে সর্ব্বোচ্চ রান কত:

ইংল্যান্ড- ৪৮১/৬ (প্রতিপক্ষ অস্ট্রেলিয়া, ১৯ জুন ২০১৮)

২০১৮ সালের জুনের অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের ম্যাচ। প্রথমে ব্যাট করে ওয়ানডে ক্রিকেট ইতিহাসের সর্ব্বোচ্চ ৪৮১ রান তুলে ইংল্যান্ড। অ্যালেক্স হেলস (১৪৭ রান) ও জনি বেয়ারস্টোর (১৩৯ রান) সেঞ্চুরিতে একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রথম দল হিসেবে ৪৭৫ রানের বেশি সংগ্রহ করে ইংলিশরা।

জবাব দিতে নেমে মাত্র ২৩৯ রানেই থামে অস্ট্রেলিয়ার ইনিংস। অসিদের ২৪২ রানের হার রানের দিক থেকে ইংল্যান্ডের সবচেয়ে বড় ব্যবধানে জয় ও তাদের সবচেয়ে বড় ব্যবধানে হারের রেকর্ড গড়ে।

শ্রীলঙ্কা- ৪৪৩/৯ (প্রতিপক্ষ নেদারল্যান্ড, ৪ জুলাই ২০০৬)

শ্রীলঙ্কা তাদের ওয়ানডে ইতিহাসের সর্বোচ্চ সংগ্রহ পায় নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ২০০৬ সালে। সনাৎ জয়াসুরিয়ার ১৫৭ এবং তিলকারাত্নে দিলশানের ১১৭ রানের ওপর ভর করে ৫০ ওভারে শ্রীলঙ্কার সংগ্রহ দাঁড়ায় ৪৪৩ রান। সেই সময়ে দক্ষিণ আফ্রিকার ৪৩৮ রান ছাপিয়ে এটাই ছিলো ওয়ানডে ক্রিকেটে সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ। রান পাহাড়ে চাপা পড়ে নেদার‌ল্যান্ডস সেদিন গুটিয়ে যায় মাত্র ২৪৮ রানে। ১৯৫ রানের বড় জয় পায় শ্রীলঙ্কা।

দক্ষিণ আফ্রিকা- ৪৩৯/২ (প্রতিপক্ষ ওয়েস্ট ইন্ডিজ, ১৮ জানুয়ারি ২০১৫)

দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক অধিনায়ক ও 'মিস্টার ৩৬০ ডিগ্রি' খ্যাত এবি ডি ভিলিয়ার্সের ৩১ বলের সেঞ্চুরিতে নিজেদের ইতিহাসের দলীয় সর্ব্বোচ্চ ৪৩৯ রান করে প্রোটিয়ারা। এখনও পর্যন্ত ডি ভিলিয়ার্সের এই সেঞ্চুরি ওয়ানডে ক্রিকেটের সবচেয়ে দ্রুততম। ডি ভিলিয়ার্স ছাড়াও সেই ম্যাচে সেঞ্চুরি হাঁকান হাশিম আমলা ও রিলে রুশো। জবাবে ২৯১ রান করতে সামর্থ্য হয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ, ম্যাচ হারে ১৪৮ রানে।

অস্ট্রেলিয়া- ৪৩৪/৪ (প্রতিপক্ষ সাউথ আফ্রিকা, ১২ মার্চ ২০০৬)

অস্ট্রেলিয়া নিজেদের ইতিহাসের সর্বোচ্চ দলীয় রান সংগ্রহ করে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে। জোহানেসবার্গে আগে ব্যাট করে রিকি পন্টিংয়ের ১০৫ বলে ১৬৪ রান এবং অ্যাডাম গিলক্রিস্ট, মাইকেল হাসি ও সাইমন ক্যাটিচের হাফ সেঞ্চুরিতে ৪৩৪ রানের সংগ্রহ পায় অস্ট্রেলিয়া।

কিন্তু নিজেদের ইতিহাস তো বটেই সেই সময়ে ওয়ানডে ক্রিকেটের ইতিহাসেরই সর্ব্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ করেও ম্যাচ হারতে হয় অসিদের। হার্সেল গিবসের ১৭৫ ও অধিনায়ক গ্রায়েম স্মিথের ৯০ রানে এক বল বাকি থাকতেই ম্য্যাচ জিতে নেয় দক্ষিণ আফ্রিকা।

ভারত- ৪১৮/৫ (প্রতিপক্ষ ওয়েস্ট ইন্ডিজ, ৮ ডিসেম্বর ২০১১)

উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান ভিরেন্দর শেবাগের সেই সময়ে ওয়ানডে ক্রিকেটে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ২১৯ রানের (১৪৯ বলে) ওপর ভর করে নিজেদের ইতিহাসের সর্বোচ্চ ৪১৮ রান করে ভারত। জবাব দিতে নেমে ২৬৫ রানে গুটিয়ে যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ভারত জয় পায় ১৪৫ রানের বড় ব্যবধানে।

নিউজিল্যান্ড- ৪০২/২ (প্রতিপক্ষ আয়ারল্যান্ড, ১ জুলাই ২০০৮)

ব্রেন্ডন ম্যাককালামের ১৩৫ বলে ১৬৬ রান এবং জেমস মার্শালের ১৪১ বলে ১৬১ রানের উপর ভর করে নিউজিল্যান্ড তাদের দলীয় সর্বোচ্চ ৪০২ রান সংগ্রহ করে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে। জবাব দিতে নেমে ১১২ রানেই অলআউট হয় আয়ারল্যান্ড। নিউজিল্যান্ড জয় পায় ২৯০ রানে। যা রানের দিক থেকে ওয়ানডে ক্রিকেটে তাদের সবচেয়ে বড় জয়।

পাকিস্তান- ৩৯৯/১ (প্রতিপক্ষ জিম্বাবুয়ে, ২০ জুলাই ২০১৮)

প্রথম পাকিস্তানি ক্রিকেটার হিসেবে ও একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ডাবল সেঞ্চুরি হাঁকান ফাখর জামান। ২৪ চার ও পাঁচ ছয়ে তার ১৫৬ বলে ২১০ রানের উপর ভর করে ৩৯৯ রান করে পাকিস্তান। জবাব দিতে নেমে শাদাব খানের বোলিং তোপের মুখে পড়ে জিম্বাবুয়ে। শাদাবের ৪ উইকেটে জিম্বাবুয়েকে ২৪৪ রানে হারায় পাকিস্তান।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ- ৩৮৯/১০ (প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯)

ম্যাচে প্রথমে ব্যাট করে ইংল্যান্ড ৫ উইকেটে ৪১৮ রান সংগ্রহ করে। জশ বাটলারের (৭৭ বলে ১০০ রান) ও ইয়ন মরগ্যানের (৮৮ বলে ১০৩ রানের) ঝড়ে এই রান করে ইংল্যান্ড। জবাব দিতে নেমে গেইলের ৯৭ বলে ১৬২ রান ও ডোয়াইন ব্রাভোর ৫৯ বলে ৬১ রানের পরও ওয়েস্ট ইন্ডিজ গুটিয়ে যায় মাত্র ৩৮৯ রানে।

আফগানিস্তান- ৩৩৮/১০ (প্রতিপক্ষ আয়ারল্যান্ড, ১৭ মার্চ ২০১৭)

অধিনায়ক আসগর আফগানের অসাধারণ সেঞ্চুরিতে নিজেদের ইতিহাসের সর্ব্বোচ্চ ৩৩৮ রান তুলে আফগানিস্তান। জবাব দিতে নেমে আয়ার‌ল্যান্ডও দারুণ শুরু করে। কিন্তু রশিদ খানের ৬ উইকেটে সেই ম্যাচে ৩৪ রানের জয় পাায় আফগানরা।

বাংলাদেশ- ৩২৯/৬ (প্রতিপক্ষ পাকিস্তান, ১৭ এপ্রিল ২০১৫)

উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান তামিম ইকবালের ১৩২ বলে ১৩৫ ও উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান মুশফিকুর রহিমের ঝড়ো সেঞ্চুরিতে (৭৭ বলে ১০৬ রান) নিজেদের ইতিহাসের সর্বোচ্চ ৩২৯ রান করে বাংলাদেশ। জবাব দিতে নেমে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে পাকিস্তানের ইনিংস থামে বাংলাদেশের চেয়ে ৭৯ রান কম করে।

এমএইচবি/এসএএস/এমএস