দেশজুড়ে

বগুড়ায় মহাসড়কের বেহাল দশা, ঈদযাত্রায় দুর্ভোগ

সিরাজগঞ্জ ও বগুড়া জেলার সংযোগস্থল চান্দাইকোনা পাবনা বাজার। এই বাজারের নানা সুবিধা দুই জেলা ভোগ করলেও বাজারের ওপর দিয়ে যাওয়া সিরাজগঞ্জ-বগুড়া মহাসড়কের স্থায়ী উন্নয়নে কারও তেমন আগ্রহ নেই। ফলে সংস্কার করলেও কিছু দিনের মধ্যে আবারও আগের রূপ ধারণ করে সড়কটি।

এদিকে ঈদকেন্দ্রিক দুর্ভোগ এড়াতে এক মাস আগে সড়কটি সংস্কারের কাজ হাতে নিয়েছে সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলা প্রশাসন। সদ্য সংস্কার কাজের দেড় মাস অতিক্রম হওয়ার আগেই মহাসড়কের অনেক স্থান থেকে কার্পেটিং উঠে সৃষ্টি হয়েছে অসংখ্য খানাখন্দ। মহাসড়ক জুড়ে গর্ত আর উঁচু ঢিবির সৃষ্টি হওয়ায় যানবাহন চলাচল বিঘ্নিত হচ্ছে। ফলে এই মহাসড়ক ব্যবহারকারী যানবাহন ও যাত্রীদের ঈদ যাত্রার শুরুতেই ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

স্থানীয়রা বলছেন, শুধু ঈদ কেন্দ্রিক নয়, যে কোনো সময়ে এই মহাসড়কে বাজার কেন্দ্রিক যানজট লেগে থাকে। যেটি আরও তীব্র যানজটের সৃষ্টি করে। আর এই যানজটের প্রভাব পড়ে বগুড়ার শেরপুর পর্যন্ত।

স্থানীয় বাস চালক আমির হোসেন বলেন, এই আধা কিলোমিটার রাস্তা বরাবরই সংস্কারহীন হয়ে থাকে। বৃষ্টি হলে এখানে তীব্র যানজট তৈরি হয়। ঈদে ২/৩ ঘণ্টারও বেশি সময় গাড়ি স্থির করে রাখতে হয়।

বগুড়া-রংপুর মহাসড়কের মোকামতলা বন্দর পর্যন্ত ৬৫ কিলোমিটার অংশের একই অবস্থা। অসংখ্য ছোট বড় গর্তে সারা সড়কে চলাচল করা দায় হয়ে পড়েছে। বগুড়া সদর বিভাগ থেকে এসব গর্ত পূরণ করা হলেও সেটি রাতারাতি উঠে গিয়ে আবারও পূর্বের অবস্থায় ফিরে যাচ্ছে।

বগুড়ার মহাস্থানগড় এলাকায় প্রাইভেটকার চালক মিনার হোসেন বললেন, নিম্নমানের কাজের কারণে মেরামত টিকছে না। কোনো রকমে বিটুমিন দিয়ে পাথর মাখিয়ে তাতে বালু দিয়ে ঢেকে দেয়া হচ্ছে। কোনো গাড়ি গেলেই চাকার সঙ্গে সেই পাথর উঠে আবার গর্ত দেখা দিচ্ছে।

ঢাকা-উত্তরবঙ্গ মহাসড়কের বগুড়া জেলা সীমানার ৬৮ কিলোমিটারের মধ্যে প্রায় সাতটি সেতু ও কালভার্ট রয়েছে। এই সাত সেতু ও কালভার্টের মধ্যে প্রায় সবগুলোই দুর্ঘটনা প্রবণ এবং মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। এর মধ্যে সব থেকে বেশি ভয়াবহ ও মরণ ফাঁদ হিসেবে পরিচিত শেরপুরের ঘোগা সেতু।

স্থানীয় বাসিন্দা ও বাস চালকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রতি বছরই ছোট থেকে শুরু করে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে এই সেতুতে। এই ৬৮ কিলোমিটার রাস্তায় যতোগুলো পয়েন্ট দুর্ঘটনা কবলিত তার মধ্যে শুধু এই সেতুতে দুর্ঘটনার হার সবচেয়ে বেশি। তবে এতো কিছুর পরও সেতুটি পরিপূর্ণভাবে নির্মাণ হয়নি। মাঝে মধ্যেই ছোটখাটো কিছু সংস্কার কাজ হলেও তা পর্যাপ্ত নয়। ফলে ঈদ যাত্রাকে সামনে রেখে ঘোগা সেতু এখন আতঙ্কের নাম চালকদের কাছে।

সড়ক বিভাগ বলছে- শিগগিরই চার লেনের কাজ শুরু হবে। এ কারণে পুরোনো সড়কে কোনো রকমে মেরামত কাজ হচ্ছে।

বগুড়া সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, বগুড়া সড়ক ও জনপথ বিভাগের আওতায় মোট ৫৭২ কিলোমিটার সড়ক রয়েছে। এর মধ্যে ১৩০ কিলোমিটার জাতীয় মহাসড়ক, ৬১ কিলোমিটার আঞ্চলিক মহাসড়ক, ৩৮১ কিলোমটার জেলা সড়ক। বগুড়ার সকল রুটেই এখন ঈদ যাত্রীদের ধীরে ধীরে ভিড় বাড়ছে। সড়কগুলো দিয়ে দিনরাত ভারি যানবাহন চলাচলের কারণে জেলা ও উপজেলার সংযোগ সড়কগুলো অবস্থা খারাপ হলেও জাতীয় সড়কে রয়েছে দুর্ভোগের খানাখন্দক। জাতীয় মহাসড়কের বগুড়া অংশের বিভিন্ন স্থানে খানাখন্দক রয়েছে। গত কয়েক দিনের মাঝারি মানের বৃষ্টিতে খনাখন্দক আরও বেড়েছে। মহাসড়কে খনাখন্দকে পড়ে মাঝে মধ্যেই দূর পাল্লার যানবাহন পড়ে বিকল হয়ে যানজটের সৃষ্টি করছে।

আঞ্চলিক মহাসড়কের মধ্যে বগুড়া-নওগাঁ মহাসড়কে উন্নয়ন কাজ চলায় গত এক বছর এই সড়কে চলাচলকারী মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। কিছু স্থানে কালর্ভাট নির্মাণ কাজ শেষ না হওয়ায় এবং সড়কের বিভিন্ন স্থানে হাট বাজার বসায় যানজটে আটকা পড়ে যাত্রীদেরকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। ঈদের আগে সড়কে যানবাহনের চাপ বেশি হলে জনগণের দুর্ভোগ বাড়বে।

বগুড়া সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আশরাফুজ্জামান জানান, জাতীয় মহাসড়কের অবস্থা ভালো রয়েছে। যেটুকু অংশে খানাখন্দক দেখা দিয়েছে সেগুলো ঈদের আগেই মেরামত করা হয়েছে। এছাড়াও জেলা সড়কগুলোর চাহিদামত বরাদ্দ না থাকায় স্থায়ীভাবে মেরামত করা যাচ্ছে না। তবে ঈদের আগেই সাময়িকভাবে মেরামত করা হবে।

লিমন বাসার/আরএআর/এমকেএইচ