ক্যাম্পাস

এখনও ভর্তির আশ্বাস পাননি তূর্য

অনশনের পরও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) ভর্তির আশ্বাস পাননি মাকে বাঁচাতে গিয়ে ভর্তি হতে না পারা প্রমিত রাউত তূর্য। তবে তিনি আশা করছেন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সবকিছু বিবেচনা করে তাকে ভর্তির সুযোগ দেবে। বর্তমানে সে আশা নিয়েই অপেক্ষায় আছেন তিনি।

বুধবার জাগো নিউজের সঙ্গে আলাপকালে এমনটাই জানিয়েছেন তূর্য।

তিনি বলেন, ভর্তি হওয়ার আশায় এতদিন পরিসংখ্যান বিভাগে ক্লাসও করেছি। তবে এখন আমার চবির শিক্ষার্থী হওয়ার স্বপ্ন ভঙ্গের পথে। গতকালের অনশনের পরও ভর্তির বিষয়ে কোনো আশ্বাস পাইনি। তবে আমি আশাবাদী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আমার বিষয়টি বিবেচনা করবেন।

এদিকে আগামীকাল বৃহস্পতিবার পরিসংখ্যান বিভাগে সহপাঠীরা তাকে ভর্তির সুযোগ দিতে মানববন্ধনের আয়োজন করবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

আরও পড়ুন> অসুস্থ মাকে বাঁচাতে গিয়ে তূর্যের চবিতে ভর্তির স্বপ্নভঙ্গ

এ বিষয়ে জানতে চবির উপাচার্যের রুটিন দায়িত্বে থাকা উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. শিরীণ আখতারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি একটি মিটিংয়ে আছেন বলে জানান।

এর আগে মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে তূর্য বিশ্ববিদ্যালয়ের জয় বাংলা ভাস্কর্যের সামনে বৃষ্টির মধ্যে অবস্থান নিয়ে অনশন করেন। এসময় ‘মা গর্ভে ধারণ করেছে, সে মাকে বাঁচাতে গিয়ে আজ আমার ছাত্রত্ব হুমকির মুখে, এই হয়রানির বিচার চাই’, ‘আমার এবং আমার পরিবারের স্বপ্ন আজ প্রশাসনের হাতে জিম্মি’, ‘আজ আমার ছাত্র ভাই-বোনেরা কোথায়? ছাত্রসমাজকে পাশে চাই’ স্লোগান সংবলিত হাতে লেখা পোস্টার প্রদর্শন করেন তূর্য। পরে দুপুরের দিকে প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা এসে তাকে প্রক্টরের কার্যালয়ে নিয়ে যান।

২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষে মেধাতালিকায় স্থান পেয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের ভর্তির জন্য মনোনীত হয়েছিলেন ময়মনসিংহের প্রমিত রাউত তূর্য। লালিত স্বপ্ন পূরণে নির্ধারিত সময়ে ডিন ও বিভাগের ফিও জমা দিয়েছিলেন তিনি। বাকি ছিল কেবল ভর্তি ফির টাকা জমা দেয়া। এজন্যও তিনি ভর্তি ফি জমা দেয়ার শেষ দিন ৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অপেক্ষা করেন। কিন্তু সেদিন বিভাগ থেকে ব্যাংকে কাগজ আসতে দেরি হচ্ছিল। এরই মধ্যে মায়ের ব্রেন টিউমার ধরা পড়ে- এমন খবর পেয়ে বাড়ির পথ ধরেন তূর্য। পরে ১০ ফেব্রুয়ারি ক্যাম্পাসে ফিরে ডিন অফিসে যোগাযোগ করলে তাকে ভর্তি করাতে অস্বীকৃতি জানায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। দীর্ঘ চার মাস কর্তৃপক্ষের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও ভর্তি হতে না পেরে তূর্যের চবিতে ভর্তির স্বপ্ন আজ হুমকির মুখে।

আবদুল্লাহ রাকীব/এমবিআর/এমকেএইচ