জাতীয়

জলাবদ্ধতা নিরসনে রামপুরা-বেগুনবাড়ীর খাল খনন

সামান্য বৃষ্টি হলেই রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়া একটি বড় সমস্যা। তবে আসন্ন বর্ষা মৌসুমে রাজধানীতে জলাবদ্ধতা নিরসনে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সংশ্লিষ্ট সেবা সংস্থাগুলো। এরই ধারাবাহিকতায় বনশ্রী-আফতাবনগরের মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত রামপুরা-বেগুনবাড়ী খাল খনন এবং পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করছে ঢাকা ওয়াসা।

বৃহস্পতিবার (২৭ জুন) দুপুরে বনশ্রী এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, পানি উন্নয়ন বোর্ডের বিশেষ গাড়ি দিয়ে খালটি খনন ও পরিচ্ছন্নতার কাজ করা হচ্ছে। এ কাজে দায়িত্বরত এরশাদ আলী জানান, গতকাল (বুধবার) থেকে খাল খনন শুরু হয়েছে। রামপুরা ব্রিজ সংলগ্ন এলাকা থেকে খননকাজ শুরু হয়ে সামনে এগিয়ে যাচ্ছে। আসন্ন বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা নিরসনে এ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

ঢাকা ওয়াসা সূত্রে জানা গেছে, জলবদ্ধতা নিরসনে ১৫টি খালের ২০ কিলোমিটার ও ৩শ’ কিলোমিটার স্টর্ম ওয়াটার পাইপ ড্রেন পরিষ্কার করছে তারা। এছাড়া চারটি স্থায়ী ও ১৫টি অস্থায়ী পাম্পের মাধ্যমে বৃষ্টির পানি অপসারণ পরিকল্পনা রয়েছে সংস্থাটির।

এদিকে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন তাদের নিয়ন্ত্রণে থাকা ড্রেনগুলো পরিষ্কার করছে। তবে সিটি কর্পোরেশন বলছে, ওয়াসাকে পানি নিষ্কাশনের জন্য পাম্পের সংখ্যা আরও বাড়াতে হবে। পানি যেন দ্রুত ড্রেন দিয়ে চলে যেতে পারে এ জন্য ৩শ’ কিলোমিটার স্টর্ম ওয়াটার পাইপ পরিষ্কার করা হয়েছে। রাস্তার পানি যেন দ্রুত পাইপ ড্রেনে প্রবেশ করতে পারে এ জন্যও ৭০০টি ক্যাচপিট পুনর্নির্মাণ করা হয়েছে।

বর্ষার আগেই রাজধানীর জলাবদ্ধতা নিরসনে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনকে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এ তথ্য জানান।

মন্ত্রী বলেন, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষ রাজধানী ঢাকার সারফেস ড্রেন, অগভীর নর্দমাসমূহ নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণ করে থাকে। ঢাকা মহানগরীতে জলাবদ্ধতা নিরসনে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বর্ষা মৌসুম শুরুর আগেই উভয় সিটি কর্পোরেশনকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। জলাবদ্ধতা নিরসনে উভয় সিটিতেই ড্রেনসমূহ নিয়মিত পরিষ্কার করার কাজ চলমান রয়েছে। ইতোমধ্যে কালশী ও মুসলিম বাজার খাল পরিষ্কার করা হয়েছে।

ঢাকা ওয়াসার পরিচালক (কারিগরি) এ কে এম সহিদ উদ্দিন বলেন, রাজধানীতে যেন জলাবদ্ধতা সৃষ্টি না হয় সেজন্য আমরা কাজ করছি। ওয়াসার ৩৭০ কিলোমিটার পাইপ ড্রেন, ১০ কিলোমিটার বক্স কালভার্ট, চারটি স্থায়ী পাম্পিং স্টেশন এবং ১৬টি অস্থায়ী পাম্পিং স্টেশন আছে। আমরা আমাদের কাজ করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি।

সম্প্রতি জলাবদ্ধতা নিরসনে কালশী থেকে বাউনিয়া খাল পর্যন্ত বাইপাস পাইপ ড্রেন সংযোগ উদ্বোধন করেন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম। কালশী এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসনকল্পে কালশী থেকে বাউনিয়া খাল পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ১১৮৮ মিটার দীর্ঘ বাইপাস পাইপ ড্রেন সংযোগের উদ্বোধন করা হয়।

উদ্বোধনকালে মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন, এ পাইপ ড্রেন সংযোগের ফলে কালশী এলাকার জলাবদ্ধতা অনেকাংশেই কমে যাবে, জনদুর্ভোগ অনেক কমে যাবে, তবে এটি স্থায়ী সমাধান নয়। স্থায়ী সমাধানের জন্য এ অঞ্চলের সকল খালকে নিয়ে সমন্বিতভাবে ওয়াসাকে পদক্ষেপ নিতে হবে। ডিএনসিসি এলাকায় জলাবদ্ধতা তৈরি হয় এমন সকল স্থানে ওয়াসা এবং অন্যান্য কর্তৃপক্ষকে সাথে নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

ডিএসসিসি সূত্রে জানা গেছে, তাদের এলাকার পানি নিষ্কাশনে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ৫১টি স্লুইস গেট রয়েছে। এসব গেট পরিষ্কার করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে। পানি অপসারণের আরও একটি মাধ্যম বক্স কালভার্ট। নগরীর অধিকাংশ বক্স কালভার্ট ভরাট হয়ে গেছে। এ কারণেও পানি অপসারণে সমস্যা হচ্ছে।

এএস/আরএস/এমকেএইচ