বরগুনায় প্রকাশ্যে দিবালোকে রিফাত হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে সারাদেশ যখন উত্তাল, ঠিক তখনই সাতক্ষীরায় নৃশংসভাবে এক শিশু ভ্যানচালককে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে মোটরভ্যান ও মোবাইল ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। নৃশংস এ ঘটনার প্রতিবাদ এবং হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার ও শাস্তির দাবিতে সাতক্ষীরায় মানববন্ধন করেছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
জেলা নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক আনিসুর রহিমের সভাপতিত্বে সোমবার বেলা ১১টায় সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সামনে এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়।
এ সময় বক্তব্য রাখেন সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সভাপতি অধ্যক্ষ আবু আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক মমতাজ আহমেদ বাপী, সাবেক সাধারণ সম্পাদক এম. কামরুজ্জামান, সিনিয়র সাংবাদিক কল্যাণ ব্যানার্জী, বাসদ নেতা অ্যাডভোকেট আজাদ হোসেন বেলাল, নাগরিক কমিটির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদ, সদস্য অ্যাডভোকেট এ.বি.এম সেলিম, অ্যাডভোকেট আল মাহমুদ পলাশ, ভুমিহীন নেতা আলানী খান বাবুল, উন্নয়ন কর্মী ফরিদা আক্তার বিউটি, মাধব চন্দ্র দত্ত প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, একটি ভ্যান ও মোবাইলের জন্য নৃশংসভাবে শিশু শাহীনকে কোপানো হয়। এ ঘটনা মানুষের বিবেককে নাড়া দিয়েছে। অমানবিক ও নৃশংস হামলাকারীদের মুখোশ উন্মোচন ও আইনের আওতায় এনে শাস্তির দাবি জানান তারা।
উল্লেখ্য, অভাবের তাড়নায় মাদরাসা ছুটির দিনে বাবার ভ্যান চালাতো যশোরের কেশবপুর উপজেলার মঙ্গলকোট গ্রামের হায়দার আলী মোড়লের ছেলে সপ্তম শ্রেণির ছাত্র শাহীন। গত শুক্রবার কয়েকজন দুর্বৃত্ত তার ভ্যান ভাড়া নিয়ে সাতক্ষীরার পাটকেলঘাটা থানার ধানদিয়া এলাকায় যাওয়ার পর এলোপাতাড়ি কুপিয়ে মোবাইল ফোনসহ ভ্যানটি ছিনিয়ে নেয়। রক্তাক্ত শাহীনকে অচেতন অবস্থায় ফেলে রাখা হয় পাট ক্ষেতে। জ্ঞান ফিরে আসার পর সে কান্নাকাটি করলে ঘটনাটি স্থানীয়দের নজরে আসে। তারপর পাটকেলঘাটা থানা পুলিশ শাহীনকে উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। বর্তমানে শাহীন ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) চিকিৎসাধীন রয়েছে।
এ ঘটনায় সাতক্ষীরার পুলিশ সুপার সাজ্জাদুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, শাহিনের ওপর ঘটে যাওয়া নৃশংস ঘটনায় অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে পাটকেলঘাটা থানায় একটি মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতারে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে। ছিনতাই হওয়া ভ্যানটি উদ্ধার ও জড়িতদের আইনের আওতায় আনার বিষয়টি পুলিশ সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে।
আকরামুল ইসলাম/এমএমজেড/এমএস