ফিচার

স্কুল তো নয় যেন অভিজাত রিসোর্ট

চারদিকে সবুজের সমারোহ। বাতাসে গাছের পাতা দোলে। দেখে মনে শিহরণ জাগে। প্রত্যন্ত অঞ্চলের একটি গ্রাম, নাম লক্ষ্মীপুর (বহরিয়া)। সেখানেই দেখা গেল ব্যতিক্রমী একটি স্কুল। দেখে মনে হয় না এটি বিদ্যাপিঠ। কোন জমিদারের বাড়ি বা অভিজাত রিসোর্ট মনে হতে পারে। বিদ্যাপিঠটি ঘুরে এসে লিখেছেন রিফাত কান্তি সেন-

যেতে যেতে রাস্তার দু’পাশের গাছ-গাছালি আর পাখির কলতানে গ্রামীণ পরিবেশের ছোঁয়া যেন হৃদয় কেড়ে নেয়। শহর ছেড়ে গ্রামের পথে ঢুকতেই দেখা মিলল কারুকার্য খচিত, দৃষ্টিনন্দন একটি বিদ্যাপিঠের। যেখানে দিনে সূর্য আর রাতে চাঁদের আলোয় বিদ্যাপিঠের ভবনটি আলোতে ঝলমল করছে।

প্রকৃতির কাছে, গ্রামীণ পরিবেশের বিদ্যাপিঠটি নান্দনিকতায় যেন নতুন এক মাত্রা যোগ করেছে। আপন মনে শিশুরা খেলা করছে। মনের আনন্দে লেখাপড়া করছে। আবার দর্শনার্থীদের ভিড়ে যেন আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়িয়েছে স্থাপনাটি। ভাবুন তো, সাদামাটা একটি গ্রাম; যেখানে সকাল থেকেই জীবনযুদ্ধ শুরু হয় খেটে খাওয়া মানুষের। মা-মাটির গন্ধ যেখানে মিশে আছে। সেখানেই আধুনিক পরিবেশে শিক্ষা লাভ করছে শিক্ষার্থীরা। ভোরে আলো ফোটার পর যেখানে পাখির কিচির-মিচির শব্দে ঘুম ভাঙে। শিক্ষার জন্য প্রয়োজন একটি সুন্দর এবং মনোরম পরিবেশ।

আরও পড়ুন > জ্বিন-ভূতের মাঠ এখন ঐতিহাসিক নিদর্শন

বাংলাদেশে এমন দৃষ্টিনন্দন বিদ্যাপিঠ কমই আছে। যেখানে রয়েছে প্রকৃতির কাছ থেকে বিদ্যা লাভ করার সুযোগ। যেখানে ব্যতিক্রম পরিবেশে শিক্ষাদান করা হয়। ব্যতিক্রম সেই বিদ্যাপিঠের নাম ‘শাহাবুদ্দিন স্কুল অ্যান্ড কলেজ’। এখানে ছাত্র-ছাত্রীদের আধুনিক পদ্ধতিতে পাঠদান করা হয়।

চাঁদপুরে অসাধারণ স্থাপনায় নির্মিত বিদ্যালয় ভবনের চারপাশ খোলামেলা। শুধু শ্রেণিকক্ষগুলোর অর্ধেক পর্যন্ত রঙিন টিনসেডে ঢাকা। দিনে সূর্য আর রাতে চাঁদের আলোতে জ্বলজ্বল করে ভবনটি। রয়েছে বাঁশের তৈরি ল্যাম্পশেডও। আছে দুটি আলাদা ওয়াশরুম। শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার জন্য রয়েছে নানা সরঞ্জাম।

এখানে শিশুরা মনের আনন্দে খেলা করে। সবুজ দুর্বা ঘাস আর সবুজ পাতার ফাঁকে তারা যেন শৈশবকে হাসি, ঠাট্টা আর আনন্দ উপভোগ করে কাটিয়ে দিচ্ছে। বিদ্যালয়টিতে এতটাই আধুনিকতার পরশ রয়েছে যে, এর ভেতরের দৃশ্য দেখতে প্রতিদিনই অসংখ্য মানুষের আগমন ঘটে। নান্দনিক এ স্কুল ও মসজিদ দেখে বিস্মিত হন দর্শনার্থীরা।

বিদ্যালয় ভবনের পাশেই রয়েছে কারুকার্য খচিত, সুসজ্জিত নান্দনিক জামে মসজিদ। চাঁদপুর জেলা সদরের লক্ষ্মীপুর মডেল ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর (বহরিয়া) গ্রামে অবস্থিত ব্যতিক্রম এ বিদ্যাপিঠ। দ্বিতল এ ভবনের ছাদে দেওয়া হয়েছে সজ্জিত সিমেন্ট শিটের ছাউনি। ভবনের মাঝখানে এবং পূর্বপাশে রয়েছে দুটি প্রশস্ত সিঁড়ি। দুই অংশেই আছে প্রশস্ত বারান্দা।

আরও পড়ুন > আর ওষুধ নয়, এবার রোগ সারাবে সাইকেল!

২০১৫ সালের অক্টোবর মাসে চাঁদপুরের সন্তান ও ব্যবসায়ী মো. শাহাবুদ্দিন এ স্কুল এবং মসজিদ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেন। একই বছর ১১৬ শতাংশ জমি কিনে স্কুল ও মসজিদ নির্মাণের কাজ শুরু করেন। শাহাবুদ্দিন ফাউন্ডেশনের একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিতি পায় ‘শাহাবুদ্দিন স্কুল অ্যান্ড কলেজ’। দু’বছর যাবৎ স্কুলের কার্যক্রম চলছে। প্লে থেকে চতুর্থ শ্রেণি পর্যন্ত প্রায় ১৬৮ জন লেখাপড়া করছে।

প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা জানান, এ প্রতিষ্ঠানে পড়ালেখা করতে আগ্রহী হয় শিক্ষার্থীরা। এখানে সব শিক্ষার্থীকে আধুনিক পদ্ধতিতে পাঠদান করানো হয়। পাশাপাশি সুন্দর এ পরিবেশে লেখাপড়া করতে পেরে আনন্দিত শিক্ষার্থীরা।

শাহাবুদ্দিন স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রধান শিক্ষক শংকর কুমার সাহা জাগো নিউজকে বলেন, ‘আধুনিকতার ছোঁয়ায় যেন ছাত্র-ছাত্রীরা লেখাপড়া করতে পারে। সে জন্য এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তৈরি করা হয়েছে। দেশের কোথাও এত সুন্দর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আগে দেখিনি।’

উল্লেখ্য, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার ক্ষতি হওয়ায় সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। তবে অন্য যে কোনো সময় প্রবেশ করা যাবে।

এসইউ/জেআইএম