দেশজুড়ে

সিলেটের বনাঞ্চলে শাহরিয়ার সিজারকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা

টুরিস্ট ভিসায় এসে বিদেশিদের বন্যপ্রাণী নিয়ে কাজ করা এবং তাদেরকে সহযোগিতার কারণে বন্যপ্রাণী গবেষক শাহরিয়ার সিজারকে লাউয়াছড়াসহ সিলেট বিভাগের সকল বনাঞ্চলে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছে সংক্ষুব্ধ নাগরিক আন্দোলন নামে একটি সংগঠন ৷ শুক্রবার দুপুরে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের প্রধান ফটকের সামনে আয়োজিত এক নাগরিকবন্ধন থেকে এ ঘোষণা দেয়া হয়।

নাগরিকবন্ধনে বক্তারা বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন বনাঞ্চল থেকে বিপন্ন প্রজাতির বন্যপ্রাণী পাচার করছে সংঘবদ্ধ একটি পাচারকারী দল। যাদেরকে চিহ্নিত করা কঠিন। এই অবস্থায় লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের জীব-বৈচিত্র্যকে বিপন্ন করে গবেষণার নামে যথাযথ অনুমোদন ছাড়া দেশি-বিদেশি অনুপ্রবেশকারীদের তথ্য গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। এদের মধ্যে বন্যপ্রাণী নিয়ে ইতিপূর্বে আটক হওয়া জনৈক গবেষক শাহরিয়ার সিজারের সংশ্লিষ্টতা উদ্বেগের। যা সিলেট বিভাগের প্রকৃতি ও পরিবেশপ্রেমী নাগরিকদের সংক্ষুব্ধ করেছে। এ অবস্থায় লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের জীব-বৈচিত্র্যকে বিপন্ন করে বন আইনে অভিযুক্ত দেশি-বিদেশি অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রবিরোধী মামলা হওয়া উচিৎ। ইতিপূর্বেও সিজার বান্দরবানের আলীকদমে কচ্ছপসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে আটক হয়েছিল। এ ধরনের মানুষ বন ও বন্যপ্রাণীর জন্য হুমকি।

বক্তারা আরও বলেন, ইতিপূর্বে শাহরিয়ার সিজার পাইথন প্রজেক্টের মাধ্যমে বনের ওপর নির্ভরশীল মানুষদের ব্যাপক ক্ষতি সাধন করেছেন। সেই পাইথন প্রজেক্টের কারণে এখনও বনের আশপাশের মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ৷ এ অবস্থায় নতুন করে তিনি (শাহরিয়ার সিজার) বিদেশি নাগরিকদের নিয়ে এসে অবৈধভাবে মহাবিপন্ন ‘বনরুই’ এর জিন সংগ্রহ করার অপচেষ্টা করেছেন বলে সংবাদ মাধ্যমে খবর এসেছে ৷ এই অবস্থায় বন ও বন্যপ্রাণীর সুরক্ষার জন্য শাহরিয়ার সিজারসহ অবৈধভাবে বাংলাদেশে ট্যুরিস্ট ভিসা নিয়ে আসা গবেষকদের লাউয়াছড়াসহ সিলেট বিভাগের সকল বনাঞ্চলে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞার দাবি জানান তারা।

বক্তারা লাউয়াছড়া রক্ষায় বিকল্প সড়ক দ্রুত চালু করারও দাবি জানান এবং লাউয়াছড়ার ভেতর থেকে রেললাইন অপসারণেরও দাবি জানান।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) সিলেট বিভাগের সম্পাদক আব্দুল করিম কিমের সঞ্চালনায় নাগরিকবন্ধনে অনান্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন, লাউয়াছড়া জীববৈচিত্র্য রক্ষা আন্দোলনের যুগ্ম আহ্বায়ক শামসুল হক, পরিবেশ সংগঠক নিয়ামুল ইসলাম খাঁন, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) সিলেটের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছামির মাহমুদ চৌধুরী, ব্যারিস্টার গোলাম সোবহান চৌধুরী, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) হবিগঞ্জের সাধারণ সম্পাদক তোফাজ্জল সোহেল, মৌলভীবাজার পরিবেশ সাংবাদিক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক নুরুল মোহাইমিন মিল্টন, জীববৈচিত্র্য রক্ষা কমিটি কমলগঞ্জের সভাপতি মনজুর আহমেদ আহাদ, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) মৌলভীবাজার জেলার সভাপতি সোহেল আহমেদ, মৌলভীবাজার চেম্বার্সের সাবেক সভাপতি ডা. এম এ আহাদ প্রমুখ।

রিপন দে/আরএআর/পিআর