দেশজুড়ে

জামালপুরে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি, দুই লাখ মানুষ পানিবন্দি

যমুনা, ব্রহ্মপুত্র, দশানী, ঝিনাই, জিঞ্জিরামসহ অন্যান্য নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় জামালপুরের সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি হয়েছে। বাহাদুরাবাদ পয়েন্টে গত ২৪ ঘণ্টায় যমুনার পানি আরও ৪৫ সেন্টিমিটার বেড়ে সোমবার দুপুরে বিপৎসীমার ১২২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন জামালপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী নব কুমার চৌধুরী। যমুনার পানি বাড়ায় নতুন করে প্লাবিত হয়েছে মেলান্দহ উপজেলার মাহমুদপুর, দুরমুঠ, কুলিয়া, নাংলা, আদরা, ঝাউগড়া, ঘোষের পাড়া ইউনিয়ন। মাদারগঞ্জ উপজেলার বালিজুড়ি, জোড়খালী, চরপাকেরদহ।

সরিষাবাড়ী উপজেলার পিংনা, আওনা, পোঘলদীঘা ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা। এছাড়াও দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা এবং ইসলামপুর উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের মানুষ পানিবন্দি হয়ে দিন কাটাচ্ছে।

এদিকে ব্রহ্মপুত্র ও দশানী নদীর পানি বেড়ে জামালপুর সদরের লক্ষ্মীরচর, তুলশীরচর, মেষ্টা ও বকশীগঞ্জ উপজেলার সাধুরপাড়া, মেরুর চর ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। সবমিলিয়ে জেলার ৭ উপজেলার ৬৮টি ইউনিয়নের মধ্যে ৩৪ টি ইউনিয়ন বন্যা কবলিত হয়ে পড়েছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে অন্তত দুই লাখ মানুষ।

বন্যা দুর্গতরা বিভিন্ন উঁচু সড়ক ও বাঁধে আশ্রয় নিয়েছেন। দুর্গত এলাকায় খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও গো-খাদ্যের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। সড়কের বিভিন্ন স্থানে পানি ওঠায় ইসলামপুর-আমতলি-মাহমুদপুর সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। এছাড়াও ইসলামপুর-গুঠাইল, ইসলামপুর-জারুতলা-মলমগঞ্জ সড়কের বিভিন্ন স্থানে পানি ওঠায় যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।

জামালপুরের জেলা প্রশাসক আহমেদ কবির জানিয়েছেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পানি ওঠায় বন্ধ করে দেয়া হয়েছে ৮৮টি প্রাথমিক, ৩৬টি মাধ্যমিক, ১৮টি মাদরাসা এবং ৩টি কলেজসহ মোট ১৪৫টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দুর্গত এলাকার জন্য এখন পর্যন্ত ৯০ মেট্রিক টন চাল, নগদ ২ লাখ টাকা ও ২ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে।

তবে এসব ত্রাণ প্রয়োজনের তুলনায় একেবারেই অপ্রতুল বলে জানিয়েছেন বন্যা দুর্গতরা।

আসমাউল আসিফ/আরএআর/এমকেএইচ