আন্তর্জাতিক

তালাক চাওয়ায় স্ত্রীকে বাথটাবে চুবিয়ে হত্যা

তালাক চাওয়ায় স্ত্রীকে বাথটাবে চুবিয়ে হত্যার দায়ে স্বামীকে অভিযুক্ত করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের একটি আদালত। ১২ বছর আগে যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনার বাসায় ওই ব্যক্তি তার স্ত্রীকে বাথটাবের পানিতে চুবিয়ে হত্যা করেন।

স্থানীয় দৈনিক অ্যারিজোনা রিপাবলিক বলছে, ২০১১ সালে যুক্তরাষ্ট্র থেকে অবতার গ্রিয়াল (৪৪) নামের ওই ভারতীয়কে বহিস্কার করা হয়। সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের একটি আদালত স্ত্রী হত্যার ঘটনায় তাকে অভিযুক্ত করেছে। ১২ বছর আগে ২০০৭ সালে ফোয়েনিক্স শহরের নিজ বাসায় স্ত্রী নবনীত কৌরকে (৩০) বাথটাবে চুবিয়ে খুন করেন তিনি।

আগামী ২৩ আগস্ট এই ভারতীয়র বিরুদ্ধে চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করবেন আদালত। ২০০৫ সালে বিয়ে করলেও তাদের মাঝে দীর্ঘ দূরত্বের সম্পর্ক ছিল। গ্রিয়াল কানাডায় এবং কৌর যুক্তরাষ্ট্রে ছিলেন।

আরও পড়ুন : প্রকাশ্যে চুমু দেয়া দুতার্তে আনলেন নতুন আইন, শিস দিলেই কারাদণ্ড

আইনজীবীরা আদালতকে বলেন, কৌরকে বিয়ের পরপরই গ্রিয়ালের আসল রূপ বেরিয়ে আসে। স্ত্রীর অবস্থান জানার জন্য গ্রিয়াল অনেকবার টেলিফোন করেছিলেন। কিন্তু টেলিফোনে কোনো জবাব না পেয়ে তিনি স্ত্রীর অফিস ও অন্যান্যদের কাছে টেলিফোন করেন।

গ্রিয়ালের আইনজীবীরা বলেন, দুর্ঘটনাবশত গ্রিয়াল তার স্ত্রীকে হত্যা করেন এবং পরে বেশ কয়েকবার নিজেও আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন। পরে যুক্তি-তর্ক উপস্থাপন শেষে আদালত বলেন, এই হত্যাকাণ্ড ছিল পরিকল্পিত এবং রাগ নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য তার নিজস্ব একটি বৈশিষ্ট্য ছিল।

বিয়ের সময় কৌরের হার্ট সার্জারির দরকার ছিল। তিনি যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসা নেয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন। কিন্তু গ্রিয়াল স্ত্রীর সার্জারি কানাডায় করতে চেয়েছিলেন।

আরও পড়ুন : ইসরায়েলি বর্বরতা : ফিলিস্তিনি শিশুকে গাড়ির চাকায় পিষে হত্যা

বিচারক জুয়ান মার্টিনেজ বলেন, এই বিচারের ক্ষেত্রে সার্জারিটি খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কারণ কৌর নিজের শরীরের ব্যাপারে যত্নশীল ছিলেন। কিন্তু তার স্বামী শুধুমাত্র নিজের ভালোটাই বেশি গুরুত্ব দিতেন।

খুন হওয়ার কিছুদিন আগে কৌর তার স্বামী গ্রিয়ালের কাছে টেলিফোনে তালাক চেয়েছিলেন। এ ব্যাপারে আলোচনা করার জন্য গ্রিয়াল কানাডা থেকে অ্যারিজোনায় স্ত্রীর কাছে আসেন। স্থানীয় একটি বিমানবন্দর থেকে স্বামীকে নেয়ার পর নিজের বাসায় যান কৌর।

এ সময় কৌর বার বার স্বামীর কাছে তালাক চান এবং গ্রিয়ালের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ করেন। পরে এই দম্পতির মাঝে ঝগড়া শুরু হয়। দু'জনই হাতাহাতি ও চড়-থাপ্পড় মারেন। এক পর্যায়ে কৌরকে গলাটিপে বাসার বাথটাবে নিয়ে চুবিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করেন।

স্ত্রীকে হত্যার পর কানাডা পালিয়ে গেলেও পরে তাকে আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্যরা গ্রেফতার করে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তর করে।

সূত্র : পিটিআই, অ্যারিজোনা রিপাবলিক।

এসআইএস/এমএস