দেশজুড়ে

পদ্মার পানিতে ভুগছে হাজারো মানুষ

গত কয়েক দিনে পদ্মায় পানি বাড়ায় রাজবাড়ীতে নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের প্রায় ২০ থেকে ২৫ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে আছেন। প্লাবিত হয়েছে ফসলি জমি ও রাস্তা-ঘাট। তবে গত ২৪ ঘণ্টায় পদ্মায় পানি কিছুটা হ্রাস পেয়েছে।

এদিকে বন্যার কারণে মানবেতর জীবন-যাপন করছেন পানিবন্দিরা। এলাকায় দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ খাবার পানি ও গবাদি পশুর খাবারের তীব্র সংকট। পানির কারণে জেলার ৬টি প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ রয়েছে।

এদিকে হঠাৎ পানি বাড়ায় তলিয়ে গেছে জেলার বিস্তৃর্ণ এলাকার ধান ও পাট। কাঁটার সময় পাননি কৃষকরা। তবে অনেকে ডুব দিয়ে কাঁটার চেষ্টা করছেন।

গত কয়েক দিনে পদ্মায় পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকার পর আজ কমতে শুরু করেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় জেলার গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া গেজ স্টেশন পয়েন্টে পানি ৯ সেন্টিমিটার কমে বিপৎসীমার ৫৯ সেন্টিমিটার এবং পাংশা উপজেলার সেনগ্রাম পয়েন্টে ৮ সেন্টিমিটার কমে ৫৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

এছাড়া রাজবাড়ী সদর উপজেলার মহেন্দ্রপুর গেজ স্টেশন পয়েন্টে পদ্মার পানি বিপৎসীমার ১ দশমিক ০৮ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

জানা গেছে, রাজবাড়ী সদরের মিজানপুর, বরাট, কালুখালীর রতনদিয়া ও গোয়ালন্দের দেবগ্রাম ও দৌলতদিয়া ইউনিয়নের প্রায় ২০ থেকে ২৫ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পরিবারের সদস্য ও গবাদি পশু নিয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করছেন। রান্না, থাকা-খাওয়া, চলাচলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে তাদের। পাশাপাশি বিশুদ্ধ খাবার পানি ও গবাদি পশুর খাবারের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় সাপ আতঙ্কে রয়েছেন পানিবন্দিরা। অনেকে বাড়ি-ঘর ছেড়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে উঁচু বাগান ও আশ্রয় কেন্দ্রে ঠাঁই নিয়েছেন। তবে ত্রাণ সহায়তা নিয়ে রয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।

পানি ওঠার কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কালুখালীর রতনদিয়া ইউনিয়ন। ওই ইউনিয়নের ৪টি ওয়ার্ডের বাসিন্দারা এখন পানিবন্দি।

এদিকে পানিতে কী পরিমাণ কৃষি জমি ও ফসলের ক্ষতি হয়েছে- তা নিরূপনে কাজ করছে কৃষি বিভাগ। জেলা প্রশাসন পানিবন্দি এলাকায় ও ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ শুরু করেছে। পাশাপাশি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের (ইউএনও) মাধ্যমে পানিবন্দিদের তালিকা তৈরির কাজ চলছে। বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় জেলা প্রশাসনের ব্যাপক প্রস্তুতি রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

ক্ষতিগ্রস্তরা জানান, গত পাঁচ-ছয় দিন ধরে তারা পানিবন্দি হলেও এখন পর্যন্ত অনেকেই কোনো ত্রাণ বা আর্থিক সহায়তা পাননি। নিজেদের খাবারের পাশাপাশি গবাদি পশুর খাবার নিয়ে পড়েছেন সমস্যায়। পানির কারণে রান্না-বান্না, থাকা-খাওয়া খুবই কষ্টকর হয়ে পড়েছে।

কেউ আত্মীয় স্বজনের বাড়ি, কেউ উঁচু স্থান, আবার অনেকে আশ্রয়কেন্দ্রে ঠাঁই নিয়েছেন। কিন্তু কোনো সহায়তা পাচ্ছেন না। পানি বাড়ায় ভয়ে সন্তানদের স্কুলে পাঠাচ্ছেন না। সেই সঙ্গে চারিদিকে সাপের উপদ্রবও বেড়েছে। এখন কাজ-কর্ম কিছুই নেই। হঠাৎ পানি আসায় ধান-পাট কিছুই কাটতে না পেরে আরও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন কৃষকরা।

রতনদিয়া ইউপি চেয়ারম্যান মেহেদী হাসিনা পারভীন বলেন, তার এলাকার ৪টি ওয়ার্ডে প্রায় ১৫ থেকে ২০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। এছাড়া বন্যার পানিতে তাদের ধান-পাট ও চলাচলের রাস্তা ডুবে গেছে। পানিবন্দি মানুষের জন্য সহযোগিতা কামনা করেছেন তিনি।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মো. ফজলুর রহমান বলেন, বন্যার পানিতে কী পরিমাণ ফসলের ক্ষতি হয়েছে, তা জানা যায়নি। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তারা তা নিরূপনের কাজ করছেন।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার হোসনে ইয়াসমিন করিমী বলেন, বন্যার পানির কারণে জেলার ৬টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঠদান কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।

রাজবাড়ী জেলা প্রশাসক দিলসাদ বেগম বলেন, পদ্মার পানি বিদৎসীমার ওপরে থাকায় বাঁধের বাইরে থাকা নিম্নাঞ্চলগুলো প্লাবিত হয়েছে। ইতোমধ্যে সদর উপজেলায় পানিবন্দিদের শুকনো খাবার দেয়া শুরু হয়েছে এবং অন্যান্য উপজেলায় ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রস্তুত করে তাদেরকেও সহায়তা দেয়া হবে। সার্বক্ষণিক বন্যা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। পরিস্থিতি মোকাবেলায় জেলা প্রশাসন প্রস্তুত রয়েছে।

রুবেলুর রহমান/এমএমজেড/পিআর