জাতীয়

‘কর্তৃপক্ষ’ শব্দ ব্যবহার করছি কিন্তু স্বাধীনতা দিচ্ছি না

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা হোসেন জিল্লুর রহমান বলেছেন, নানা পর্যায়ে আমাদের সক্ষমতার অভাব আছে। এ বাস্তবতা থেকে আমাদের উত্তরণ পেতে হবে। ‘কর্তৃপক্ষ’ শব্দ ব্যবহার করছি কিন্তু আমরা সেটায় স্বাধীনতা দিচ্ছি না।

‘আরেকটি বিষয় হচ্ছে, আমাদের দায়িত্ব আছে, কিন্তু সেই দায়িত্ব আমাদের সক্ষমতা ছাড়া। তরুণদের বলব, এদিকে খুব বেশি নজর দিতে। এ দায়িত্ব নিজেরা নিতে চাচ্ছি কিন্তু নিজেদেরও সক্ষম করে গড়ে তুলতে হবে।’

রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে শনিবার ‘ভোক্তা অধিকার ও নিরাপদ খাদ্য : চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন।

হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের এফডিএ’র (ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন) আদলে একক সংস্থার ধারণার প্রয়োজন আছে। এখানে একক সংস্থার ধারণা গুরুত্বপূর্ণ। এটা নিয়ে আলোচনা এবং এটা নিয়ে এগোনো খুব প্রয়োজন। আবার ‘ওইটা না হওয়া পর্যন্ত কিছু করা যাবে না’- এ মানসিকতার মধ্যে ঢোকা যাবে না। বাংলাদেশে এটাও একটা সমস্যা, একটি কর্তৃপক্ষকে স্বাধীন হতে হবে। কেন সে একটা মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকবে? ‘কর্তৃপক্ষ’ শব্দ ব্যবহার করছি কিন্তু আমরা সেটায় স্বাধীনতা দিচ্ছি না।

একক সংস্থাকে তার দায়িত্ব পালনের স্বাধীনতা দিতে হবে। এফডিএ তাদের পূর্ণ ক্ষমতা প্রয়োগের সুযোগ পায়, আমাদের সেই সুযোগ দিতে হবে- বলেন বিশিষ্ট এ অর্থনীতিবিদ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বেলার প্রধান নির্বাহী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সহকারী সম্পাদক সফিউল্লাহ আল মামুন, সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শামীমা শাহরিয়ার প্রমুখ।

অনুষ্ঠানের শুরুতে মূল প্রবন্ধ তুলে ধরে এম জাকির হোসেন খান বলেন, জনসাধারণের কাছে খাদ্যের গুণগত মান সম্পর্কে সম্পূর্ণ তথ্য অনেক ক্ষেত্রেই পৌঁছায় না। ফলে তারা মানহীন খাদ্য ক্রয় করতে বাধ্য হন। এছাড়া ভেজাল খাদ্য খেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত কিংবা অসুস্থ ভোক্তার সরাসরি মামলা করার বিধান নেই। নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট অংশীজনের মধ্যে পারস্পরিক সমন্বয়, সহযোগিতার অভাব আছে।

তিনি এ সময় কিছু সুপারিশ তুলে ধরে বলেন, নিরাপদ খাদ্য-সংক্রান্ত সব ধরনের আন্তর্জাতিক চুক্তি ও কনভেনশন মেনে চলার ক্ষেত্রে সরকারের সদিচ্ছার প্রকাশ ঘটাতে হবে। নিরাপদ খাদ্য সম্পর্কিত আইন প্রণয়ন বা সংশোধনী নিশ্চিত করে যুক্তরাষ্ট্র ও সিঙ্গাপুরের মতো সরকারি-বেসরকারি সংস্থা, বিশেষজ্ঞসহ সব অংশীজনকে অন্তর্ভুক্ত করে বাংলাদেশে সমন্বিত নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ গঠনসহ খাদ্যে ভেজাল মেশানোর অপরাধে কঠোর আইন প্রয়োগ ও দ্রুত ট্রাইবুনালের মাধ্যমে যথোপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিত করা, আমদানি পণ্যগুলোর প্রবেশ মুখে পণ্যের মান পরীক্ষা করে বাজারে ছাড়ার প্রস্তাব দেন পরিবেশ ও জলবায়ু অর্থায়নে সুশাসন বিষয়ক বিশ্লেষক এম জাকির হোসেন খান।

এফএইচ/এমএআর/এমএস