ব্লগার ও লেখক অভিজিৎ রায় হত্যা মামলায় সাক্ষ্য দিয়েছেন মামলার বাদী ও অভিজিতের বাবা বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অজয় রায়। এছাড়া মাসুদুর নামে আরও একজন এ মামলায় আদালতে সাক্ষ্য দেন।
সোমবার ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালের ভারপ্রাপ্ত বিচারক জেসমিন আরা বেগমের আদালতে তারা সাক্ষ্য দেন। সাক্ষ্য শেষে পরবর্তী সাক্ষ্য দেয়ার জন্য আগামী ১৮ নভেম্বর দিন ধার্য করেন আদালত।
অভিজিতের বাবার সঙ্গে আজ আদালতে আসেন তার ভাই অনুজিত রায়। তিনি সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তরে বলেন, অভিজিতের স্ত্রী রাফিদা আহমেদ বন্যা বর্তমানে আমেরিকায় বসবাস করছেন।তার দেশে আসার সম্ভাবনা একবারেই নেই। এদেশে তো বিচার নেই। আমরাই এদেশে পুরোপুরি নিরাপদ না। অভিজিতের স্ত্রী কীভাবে এদেশে থাকবে?
মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ব্লগার ও লেখক অভিজিৎ রায়কে ২০১৫ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি রাত সোয়া ৯টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের পাশে সন্ত্রাসীরা কুপিয়ে জখম করে। আহত অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেয়া হলে রাত সাড়ে ১০টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
পরে ২৭ ফেব্রুয়ারি অভিজিতের বাবা বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অজয় রায় শাহবাগ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ২০১৯ সালের ১৩ মার্চ ঢাকা মহানগর হাকিম সরাফুজ্জামান আনসারীর আদালতে ছয়জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের পরিদর্শক মনিরুল ইসলাম। মামলায় ৩৪ জনকে সাক্ষী করা হয়।
১১ এপ্রিল ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মজিবুর রহমান ছয় আসামির বিরুদ্ধে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) গ্রহণ করেন। ১ আগস্ট আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মজিবুর রহমান।
মামলার আসামিরা হলেন- মেজর (চাকরিচ্যুত) সৈয়দ মোহাম্মদ জিয়াউল হক ওরফে জিয়া, মোজাম্মেল হুসাইন ওরফে সায়মন (সাংগঠনিক নাম শাহরিয়ার), আবু সিদ্দিক সোহেল ওরফে সাকিব ওরফে সাজিদ ওরফে শাহাব, আকরাম হোসেন ওরফে আবির, মো. আরাফাত রহমান ও শফিউর রহমান ফারাবি।
জেএ/বিএ/জেআইএম