লক্ষ্মীপুরে বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারসহ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের চেম্বারে রোগী দেখার প্রচারে মাইকিং নিষিদ্ধ করা হয়েছে। শব্দ দূষণ জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হওয়ায় এ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। বুধবার (২৭ নভেম্বর) বিকেলে জেলা সিভিল সার্জন মো. আব্দুল গফফার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্র জানায়, জেলা সদর, রায়পুর, রামগঞ্জ, রামগতি ও কমলনগরে ৯০টি বেসরকারি ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিগত চেম্বারে বসা চিকিৎসকদের পক্ষে প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত মাইকে প্রচারণা চালানো হয়। যা জনস্বাস্থ্যের জন্য চরম ক্ষতিকর। এতে এলাকার লোকজন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন। এ অবস্থায় এমন নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। সেই নির্দেশনা অমান্য করলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এদিকে এ বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে জেলা প্রাইভেট ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক ওনার্স অ্যাসোসিয়শনের আহ্বায়ক ডা. কামালুর রহিম সমর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন। এরপর সেখানে জেলা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের উপ-পরিচালক আশফাকুর রহমান মামুন মন্তব্য করেছেন, ‘আরো আগেই বলে আসছি, শুধু শব্দ দূষণ নয়, ব্যাপারটা ছোট বেলায় দেখা মনিরাজ সালসার মাইকিং এর কথা মনে করিয়ে দেয়। সাধুবাদ প্রশাসনকে’।
ডা. কামালুর রহিম সমর জানান, মাইকিং বন্ধের সিদ্ধান্তটি ভালো উদ্যোগ। তবে জেলার বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়গনস্টিক সেন্টারগুলোতে বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরাও বসেন। যাদের কাছে চিকিৎসা নিতে রোগীরা মাইজদী ও ঢাকায় যান। তাই এখানেও যে তারা রোগী দেখেন তা লোকজনকে জানানো প্রয়োজন। এজন্য সপ্তাহে একদিন কিংবা কয়েক ঘণ্টার জন্য মাইকিংয়ের সুযোগ দেয়ার দাবি জানান তিনি।
এ ব্যাপারে জেলা সিভিল সার্জন ডা. মো. আব্দুল গফ্ফার বলেন, মাইকিংয়ের যন্ত্রণায় জেলার লোকজন অতিষ্ঠ ছিল। এজন্য শব্দদূষণ রোধে হাসপাতালসহ চিকিৎসকদের পক্ষে মাইকিং নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কেউ এ নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। তবে প্রচার-প্রচারণার জন্য লিফলেট ও পোস্টার ব্যবহার করতে পারবেন।
কাজল কায়েস/এমএমজেড/পিআর