দেশজুড়ে

জরুরি মুহূর্তে সেবা দেবে ‘ভ্যান অ্যাম্বুলেন্স’

চারপাশে ফুল, সবজি আর ভেষজ বাগান। দেখতে মিনি পার্কের মত। এটি সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার দেবীপুর কমিউনিটি ক্লিনিকের চিত্র। নিজেদের উদ্যোগে ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় ক্লিনিকের আগের চিত্র বদলে ফেলেছেন এর সদস্যরা।

কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রভাইডার (সিএইচসিপি) অনিরুদ্ধ কর্মকার জানান, প্রায় দেড় বছর আগে ক্লিনিকের চত্বরে ফাঁকা জায়গায় সবজি ও ভেষজ বাগান শুরু করি। ফুলের বাগানটি করেছি ৬ মাস আগে। স্থানীয়রা ক্লিনিকটি পরিচালনার জন্য সার্বিক সহযোগিতা করেন। এছাড়া ক্লিনিকের স্বাস্থ্য সহকারী সিজ্জাতুন নেছা, মর্জিনা খাতুন ও পরিবার কল্যাণ সহকারী নাজমা পারভিন আন্তরিক হয়ে সেবা প্রদান ও দায়িত্বপালন করেন।

তিনি বলেন, রোগীদের জন্য উপজেলা পরিষদ একটি ছাউনিযুক্ত ভ্যান দিয়েছিল। সেটিকে আমরা ভ্যান অ্যাম্বুলেন্স বানিয়েছি। এটি জরুরি সময় রোগীদের পরিবহন করবে, সেবা দেবে। অনেক সময় অ্যাম্বুলেন্স পাওয়া যায় না, এতে রোগীরা কষ্ট পায়।

সোমবার (২ ডিসেম্বর) দুপুরে দেবীপুর কমিউনিটি ক্লিনিক পরিদর্শন করে ভ্যান অ্যাম্বুলেন্সটি উদ্বোধন করেন জেলা সিভিল সার্জন ডা. শেখ আবু শাহিন।

এ সময় উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. অজয় কুমার সাহা, সেভ দ্য চিলড্রেনের চিকিৎসক জেরিন, জেলা সিনিয়র স্বাস্থ্য শিক্ষা কর্মকর্তা পুলক কুমার চক্রবর্তী, ক্লিনিকের ভূমিদাতা ও ক্লিনিক পরিচালনকা কমিটির সহ-সভাপতি রাজেন্দ্র মন্ডল, স্বাস্থ্যকর্মীসহ আগত রোগীরা উপস্থিত ছিলেন।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) এম কামরুজ্জামান বলেন, দেবীপুর কমিউনিটি ক্লিনিকের পরিবেশ ও ব্যবস্থা অনুপ্রাণিত করার মতো। সামনের ফুলে ও সবজি বাগান, ভেষজ গাছ-গাছালি ক্লিনিকের পরিবেশকে আরও সুন্দর করেছে। উপজেলা প্রশাসন থেকেও এই ক্লিনিকে সহযোগিতা করা হবে।

এদিকে, জেলা সিভিল সার্জন ডা. শেখ আবু শাহিন বলেন, ক্লিনিকটির উদ্ভাবনী কার্যক্রম আমাকে মুগ্ধ করেছে। জরুরি মুহূর্তে রোগীদের ভ্যান অ্যাম্বুলেন্স সেবাটি আকর্ষণীয়। এলাকাবাসী ক্লিনিকটিকে নিজেদের মনে করে সব ধরনের সহযোগিতা করেন। সেখানে কর্মরতরাও আন্তরিক হয়ে সেবা দিচ্ছেন।

তিনি বলেন, প্রতি মাসে এ ক্লিনিকে এক হাজারেরও বেশি রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন। সদস্যরা নিজেদের উদ্যোগে ক্লিনিক চত্বরে সবজি, ফুল ও ভেষজ বাগান করেছে যা পরিবেশকে সুন্দর করে তুলেছে। এছাড়া কমিউনিটি ক্লিনিকের কার্যক্রম পোস্টারের মাধ্যমে প্রচার জনগণকে এখানে সেবা গ্রহণে উদ্বুদ্ধ করেছে। ক্লিনিকটি দেশের স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য অনুকরণীয় হতে পারে। সরকার স্বাস্থ্যসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে যে কার্যক্রম গ্রহণ করেছে, সব ক্লিনিক যদি এমনভাবে উপস্থাপন ও সাজানো যায় তবে, তা বাস্তবায়ন খুব সহজ হবে।

আকরামুল ইসলাম/এমএমজেড/জেআইএম