ঘন কুয়াশা আর হিমেল হাওয়ায় কাঁপছে উত্তরের জেলা কুড়িগ্রামের মানুষ। শৈত্যপ্রবাহের কারণে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। গত তিন দিন ধরে জেলায় সূর্যের দেখা মিলছে না। দিনে মেঘাচ্ছন্ন আকাশ থেকে গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টির মতো ঝরছে শিশির। কুয়াশার সঙ্গে বইছে হিমেল হাওয়া। ফলে প্রচণ্ড ঠান্ডায় নাকাল কুড়িগ্রামের মানুষ।
সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছে ১৬টি নদ-নদী তীরবর্তী ৫২০টি চরের প্রায় ৫ লক্ষাধিক মানুষসহ নিম্ন আয়ের শ্রমজীবীরা। শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে শিশু ও বয়স্করা। হাপানি, অ্যাজমা, নিউমোনিয়া, হৃদরোগসহ শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালগুলোতে বাড়ছে রোগীর সংখ্যা। গোবাদিপশুও রেহাই পাচ্ছে না শীতের প্রকোপ থেকে।
এদিকে তীব্র শীতের কারণে কাজকর্ম না পেয়ে মানবেতর জীবন কাটছে দিনমজুরদের। ব্রহ্মপুত্র, ধরলা, দুধকুমার নদীবেষ্টিত যাত্রাপুর ইউনিয়নের চর যাত্রাপুরের বাসিন্দা মজিবর আলী ও রহিম উদ্দিন বলেন, ‘বাহে এবার পৌষের আগাম শীত আসায় হামরা চরের মানুষজন খুবই কষ্টে আছি। দিন হাজিরা দিয়া চলি। দিনে ৭/৮ ঘণ্টা কাজ করিয়া ৩৫০/৪০০ টাকা হাজিরা পাই। এই টাকা দিয়া সংসারের খরচাদি করি। সূর্য না ওঠায় আধা বেলার জন্য কেউ কেউ কাজে নিতে চায় না। এ জন্য কাজকর্ম কমে গেছে। টুকটাক কাজ জুটলেও মজুরি তেমন মিলে না। যে মজুরি পাই সেই টাকায় সংসার চালানো দায়। তার ওপর তরকারির যে দাম। ক্যামনে শীতের কাপড়-চোপড় কিনি। বাধ্য হয়ে পুরাতন যা আছে তা দিয়েই শীত পার করার চেষ্টা করছি। ’
পাঁচগাছী ইউনিয়নের শুলকুর বাজার গড়ের পাড় বাসিন্দা রহিমা বেগম ও বুলবুলি আক্তার বলেন, ‘হামরা মাটি কাটিয়া ২০০/২৫০ টাকা হাজিরা পাই। যে শীত পড়ছে ঘর থাকি বের হবার পাই না। মাঠে তেমন কাজ নাই। ছোয়াপোয়া নিয়ে তান্নাৎ পড়ি আছি। শীতবস্ত্রসহ ইলিপের (ত্রাণ) দরকার নাই হামার এটিকার মাইনষের। হামরা কাম করি চলবার পাই। কিন্তু এবার শীতে একনা বেশি কষ্ট হবাইছে জিনিসের দাম বেশি হওয়ায়। সরকার জিনিসের দাম কমবারও পায় না হামারও মুজুরি বাড়ায় না। হামার ত্রাণের দরকার নাই। বাহে তোমরা হামার মজুরি বাড়বার কন, না হলে জিনিসপত্রের দাম কমবার কন সরকারক।’
অন্যদিকে গত কয়েকদিনে শীতের তীব্রতা বাড়ায় শীতের কাপড়ের দোকানগুলোতে ভিড় জমাচ্ছে শীতার্ত মানুষ। বেশি ভিড় লক্ষ্য করা গেছে ফুটপাত এবং স্বল্প মূল্যের পুরাতন কাপড়ের দোকানগুলোতে। নিজেদের সাধ্যমত শীতবস্ত্র কিনছে মানুষ।
সন্ধ্যার পরপরই গ্রাম ও শহরের দোকানগুলো ক্রেতা সংকটে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। প্রয়োজন ছাড়া সাধারণ মানুষ ঘর থেকে বের হতে পারছেন না। দিনে বা রাতে অনেকেই খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের জন্য চেষ্টা করছেন।
নাজমুল হোসাইন/আরএআর/এমএস