বৃহস্পতিবার (২৬ ডিসেম্বর) সকাল থেকে শুরু হয় বলয়গ্রাস সূর্যগ্রহণ। এই সূর্যগ্রহণ বাংলাদেশ থেকেও আংশিক দেখা গেছে। ঢাকায় সূর্যগ্রহণ শুরু হয় সকাল ৯টা ৪ মিনিট ১৮ সেকেন্ডে এবং ১২টা ৬ মিনিট ৪২ সেকেন্ডে শেষ হয়। দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও একইভাবে শুরু হয়ে শেষ হয়েছে সূর্যগ্রহণ।
বিরল এই সূর্যগ্রহণ দৃশ্যমান হওয়ার পর যশোরের অভয়নগর উপজেলায় সালাতুল কুসুফ আদায় করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে উপজেলার বিভিন্ন মসজিদে জামাতে সালাতুল কুসুফ আদায়ের জন্য মাইকে ঘোষণা দেয়া হয়। ওই আওয়াজ শুনে অনেক ধর্মপ্রাণ মুসল্লি সকাল ৯টার পর মসজিদে প্রবেশ করে দোয়া দরুদ পড়তে থাকেন।
অভয়নগর ৫নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মিজানুর রহমান মোল্লা বলেন, সূর্যগ্রহণকে কুসুফ বলা হয়। আর সূর্যগ্রহণের নামাজকে সালাতুল কুসুফ বলা হয়। নওয়াপাড়া শংকরপাশা সরকারি হাইস্কুল গেটসংলগ্ন জামে মসজিদে সকাল সাড়ে ৯টায় শুরু হয় দুই রাকাত সালাতুল কুসুফ। নামাজ শেষে আল্লাহর দরবারে বিশেষ মোনাজাত করেন মুসল্লিরা।
স্থানীয় সূত্র জানায়, উপজেলার পীরবাড়ি জামে মসজিদ, নওয়াপাড়া সরকারি হাসপাতাল রোডের বায়তুল আমান জামে মসজিদ, বুইকরা জামে মসজিদ, সরকারি কবরস্থান জামে মসজিদেও সালাতুল কুসুফ আদায় করা হয়।
প্রসঙ্গত, সূর্যগ্রহণের সময় আনন্দ উদযাপন বা প্রবল আগ্রহ নিয়ে তা অবলোকন করার বিষয়ও নয় বরং সূর্যগ্রহণের সুন্নাতি আমল হচ্ছে ক্ষমা-প্রার্থনা করা, দোয়া করা, নামাজ পড়া এবং সাদকা করা। বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ আমলেই সূর্যগ্রহণের সময়গুলো অতিবাহিত করেছেন।
এ সময় অনর্থক গল্প-গুজব, হাসি-তামাশা ছেড়ে অন্তরে ভয় জাগ্রত রাখা কর্তব্য। কেননা আল্লাহ তাআলা বান্দাদেরকে সতর্ক করেছেন। ভয় প্রদর্শন করেছেন। হাদিসেও তা প্রমাণিত। সে কারণেই আল্লাহর প্রকৃত বান্দারা সূর্যগ্রহণের সময় তার ভয়ে ভীত থাকেন।
এএম/এমকেএইচ