সরকারদলীয় সংসদ সদস্য ইউনুস আলী সরকারের মৃত্যুতে গাইবান্ধা-৩ (সাদুল্যাপুর-পলাশবাড়ী) আসনের মানুষের মাঝে শোকের ছায়া নেমেছে। এক বছর সাতদিনের ব্যবধানে দুজন এমপিকে হারিয়ে অভিভাবকহীন এখানকার মানুষ।
সমবেদনা জানানোর ভাষা নেই তাদের। তাদের হৃদয়ের মধ্যে কষ্টের দাগ কেটে বিদায় নিতে যাচ্ছে ২০১৯ সাল। একইভাবে ২০১৮ সালের ২০ ডিসেম্বর তাদের মনে কষ্টের দাগ কেটে বিদায় নিয়েছিল।
ওই বছর গাইবান্ধা-৩ আসনের ছয় বারের নির্বাচিত এমপি ড. টিআইএম ফজলে রাব্বি চৌধুরী মারা যান। তার মৃত্যুর বছর ঘুরতে না ঘুরতেই আবারও একই আসনের এমপির মৃত্যুর খবর শুনল এখানের মানুষ।
শুক্রবার (২৭ ডিসেম্বর) সকালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন এমপি ডা. ইউনুস আলী সরকার।
এদিকে হঠাৎ ইউনুস আলীর মৃত্যুতে শোকাহত এখানের ভোটাররা। তার মতো ভালো জনপ্রতিনিধি এই আসনে আগামীতে আসবে কি-না সেই আশঙ্কায় রয়েছেন তারা।
পলাশবাড়ী উপজেলার হরিণাবাড়ী ইউনিয়নের গোজলার হোসেন বলেন, কোনোভাবেই নিজেদের সান্ত্বনা দিতে পারছি না। বছর না ঘুরতেই দুজন এমপি হারালাম আমরা। ফজলে রাব্বির মৃত্যুর পর ইউনুস আলীকে পেলাম। কিন্তু তাকেও হারালাম। তার মতো সৎ অভিভাবক আর পাব কি-না আমরা জানি না।
সাদুল্যাপুর উপজেলার ভাতগ্রাম ইউনিয়নের আব্দুর রাজ্জাক বলেন, এমপি ইউনুস আলীর মৃত্যুতে আবারও আমরা অভিভাবকহীন হয়ে পড়লাম। এত তাড়াতাড়ি তার মৃত্যু হবে কল্পনাও করিনি। আমরা গভীরভাবে শোকাহত।
পলাশবাড়ী উপজেলার হরিণাথপুর ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি নুর আলম অকন্দ বলেন, এমপি ইউনুস আলী অনেক ভালো মানুষ ছিলেন। ডা. হিসেবেও আমাদের সেবা করেছেন। হঠাৎ তার মৃত্যুতে শোকের ছায়া নামল।
এমপি ইউনুস আলীর মৃত্যুতে সাদুল্যাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নবী নেওয়াজ ফেসবুকে লিখেছেন, ‘গাইবান্ধা-৩ আসনের এমপি ইউনুস আলী ছিলেন বিনয়ী এবং কোমল স্বভাবের মানুষ। বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে তার নাম একজন স্বচ্ছ রাজনীতিবিদ হিসেবে লেখা থাকবে।
সাদুল্যাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহারিয়ার খাঁন বিপ্লব বলেন, এমপি ইউনুস আলী দীর্ঘদিন ধরে ক্যানসারসহ শারীরিক বিভিন্ন রোগে ভুগছিলেন। তার মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত।
দেশের অন্যান্য আসনের সঙ্গে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে (২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর) গাইবান্ধা-৩ আসনেও ভোট হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু প্রতীক বরাদ্দের পর এই আসনের প্রার্থী ছয় বারের এমপি ফজলে রাব্বির মৃত্যু হলে ভোটগ্রহণ স্থগিত করে দেয় নির্বাচন কমিশন।
পরে পুনরায় তফসিল ঘোষণা করা হয়। তখন গাইবান্ধা-৩ আসন থেকে এমপি নির্বাচিত হন আওয়ামী লীগের প্রার্থী ডা. ইউনুস আলী সরকার। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জাতীয় পার্টির প্রার্থী লাঙল প্রতীকে ব্যারিস্টার দিলারা খন্দকার শিল্পীকে পরাজিত করেন তিনি।
জাহিদ খন্দকার/এএম/এমকেএইচ