দেশজুড়ে

নবীন-প্রবীণে মুখরিত যশোর ক্যান্টনমেন্ট কলেজ

নবীন-প্রবীণ প্রাণের মেলায় উচ্ছ্বাসে মেতে ছিল যশোর ক্যান্টনমেন্ট কলেজ। কলেজের সুবর্ণজয়ন্তী ও পুনর্মিলনীর দু’দিনব্যাপি জমকালো আয়োজনে মুখরিত ছিল কলেজ প্রাঙ্গণ। গতকাল শনিবার বিকেলে দু’দিনব্যাপি এ আনন্দ আয়োজনের উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়। রোববার পর্দা নামে এ বর্ণিল আয়োজনের। জমকালো অনুষ্ঠানে মেতে ছিলেন কলেজের পাঁচ সহস্রাধিক প্রাক্তন শিক্ষার্থী।

যশোরের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ‘যশোর ক্যান্টনমেন্ট কলেজ’র ৫০ বছর পূর্তি হয়েছে এ বছর। এ অর্জনকে উপলক্ষ করে সুবর্ণজয়ন্তী ও পুনর্মিলনী উৎসবের আয়োজন করা হয়। দুইদিন ব্যাপি এ অনুষ্ঠান উদযাপন করতে বর্ণিল সাজে সাজানো হয় গোটা ক্যাম্পাস। কলেজজুড়ে নানা রকমের বিলবোর্ড আর তোরণ শোভা বর্ধন করে গোটা এলাকার। একাডেমিক ও অফিস ভবন রঙ-বেরঙয়ের আলোর বিন্দু দিয়ে সাজানো হয়। দু’দিন রাতেই অনুষ্ঠিত হয় বর্ণিল কনসার্ট।

রোববার সকালে যশোর পৌরপার্ক থেকে বের হয় বর্ণিল শোভাযাত্রা। প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা বাদ্যের তালে তালে নেচে গেয়ে উপভোগ করে এ শোভাযাত্রা। বেলা সাড়ে ১১টায় কলেজ ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা। কলেজ অধ্যক্ষ লে. কর্নেল আমিনুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য্য। বিশেষ অতিথি ছিলেন যশোর-৩ আসনের সংসদ সদস্য কাজী নাবিল আহমেদ। অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন, প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য্য’র সহধর্মিণী মহিলা পরিষদ নেত্রী তন্দ্রা ভট্টাচার্য্য, কলেজের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ এস এম বাহাউদ্দিন প্রমুখ।

উদযাপন পরিষদের আহ্বায়ক কাজী ইকবালুর রশীদের সঞ্চালনায় শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন কলেজের প্রাক্তন ছাত্র এন্টি-টেরোরিজম ইউনিটের ডিআইজি মনিরুজ্জামান ও গাজীপুরের জেলা প্রশাসক এসএম তরিকুল ইসলাম।

এর আগে শনিবার বিকেল ৪টার পর এ মঞ্চেই দুই দিনের অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করা হয়। শান্তির প্রতীক সাদা পায়রা ও ফেস্টুন বেলুন উড়িয়ে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর যশোর অঞ্চলের এরিয়া কমান্ডার ও ৫৫ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল আতাউল হাকিম সারওয়ার।

উদ্বোধনী পর্বে আরও বক্তব্য দেন কলেজের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ এস এম বাহাউদ্দিন, কলেজ অধ্যক্ষ লে. কর্নেল আমিনুর রহমান, উদযাপন পরিষদের আহ্বায়ক কাজী ইকবালুর রশীদ, ক্যান্টনমেন্ট কলেজ প্রাক্তন ছাত্র সমিতির সাধারণ সম্পাদক গিয়াস উদ্দিন খান ডালু প্রমুখ।

উদযাপন পরিষদের আহ্বায়ক কাজী ইকবালুর রশীদ জানিয়েছেন, এসো স্মৃতির প্রাঙ্গণে, মিলি প্রীতির বন্ধনে-এ স্লোগানে ক্যান্টনমেন্ট কলেজের পাঁচ সহস্রাধিক প্রাক্তন শিক্ষার্থী এ মিলন মেলায় অংশ নিয়েছে। প্রবীণ ৭৫ ব্যাচের ৩ জন প্রাক্তন ছাত্র অংশ নিচ্ছেন। ৭৫ থেকে সর্বশেষ ১৯ ব্যাচের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা অনুষ্ঠানে ছিলেন। রাষ্ট্র ও সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত ও স্বনামধন্য প্রাক্তনের এ অনুষ্ঠানকে উজ্জ্বল করেছেন।

ক্যাম্পাস ঘুরে দেখা যায়, ছোট ছোট স্টলে বসেছিল মিনা বাজার। মাঠের এককোণে গরম গরম কফির বন্দোবস্ত। গরম গরম কফিতে চুমুক দিতে দিতে পুরোনো বন্ধুদের সঙ্গে খোশগল্পে মেতেছিলেন সবাই। পুরনো বন্ধুদের সঙ্গে অনেক দিন পর মিলিত হওয়ার স্মৃতি ছবির ফ্রেমে ধরে রাখতে ফটোসেশন ও সেলফিতে মাতেন অনেকেই।

মিলন রহমান/এমএএস/জেআইএম