দেশজুড়ে

কানা রমিজ খাঁ বাহিনীর অত্যাচারে অতিষ্ট মানুষ

শরীয়তপুর সদর উপজেলার চিকন্দী ইউনিয়নের আবুরা এলাকার কানা রমিজ খাঁ বাহিনীর চাঁদাবাজি, দখলবাজি, হুমকি ও অত্যাচারে অতিষ্ট হয়ে পড়েছেন চিকন্দী বাজারের ব্যবসায়ীসহ স্থানীয়রা। এ ঘটনায় সম্প্রতি রমিজ খাঁ বাহিনীর অন্যায়-অত্যাচার থেকে রক্ষা পেতে ও পাওনা টাকা আদায় করতে ১৮ জন ব্যবসায়ী শরীয়তপুরের পুলিশ সুপার বরাবর একটি অভিযোগ দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

রমিজ খাঁর বাবার নাম মৃত আব্দুল আজিজ খাঁ। রমিজ খাঁর অন্যায়-অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে ১৯৮৫ সালে এলাকার মানুষ তার চোখ দুটি উপরে ফেলে। সেই থেকে তার নাম কানা রমিজ খাঁ।

বাজারের ব্যবসায়ী ও এলাকবাসী সূত্র জানায়, শরীয়তপুর সদর থেকে ৯ কিলোমিটর দূরে চিকন্দী চৌকি আদালত। আদালতটি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৮৭২ সালে। আর ১৯২৬ সালে আদালতের কাছেই গড়ে ওঠে চিকন্দী বাজার। ওই বাজারে কোনো দোকান ঘর ও দালান নির্মাণ শুরু করলে কানা রমিজ খাঁ বাহিনীকে মোটা অংকের চাঁদা দিতে হয়। তাছাড়া বেশির ভাগ দোকান মালিকদের কাজ থেকে মালপত্র নিয়ে টাকা না দেয়ার অভিযোগও উঠেছে। ওই বাহিনীর আতঙ্কে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছে চিকন্দী বাজার ব্যবসায়ী ও এলাকার মানুষ।

স্থানীয় গরু ব্যবসায়ী বাবুল ফকির নিজের গরু বিক্রি করেন রমিজ খাঁর ছেলে মোদাচ্ছের খাঁর কাছে। পাঁচ বছর হয়ে গেলেও গরু বিক্রির ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা পরিশোধ করেননি মোদাচ্ছের। টাকা চাইতে গেলে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দিচ্ছেন। চিকন্দী বাজারের চায়ের দোকানদার বিল্লাল হোসেন ফকিরের চা দিতে দেরি করায় তাকে মারধর করেছে কানা রমিজ খাঁ বাহিনী। শুধু তাই নয় তার এবং তার ছেলেদের নির্যাতনের শিকার হয়েছে হাজার হাজার মানুষ। চিকন্দী বাজারের বড় ব্যবসায়ী, ছোট ব্যাবসায়ী, চায়ের দোকানদার, দুধওয়ালা, মুচি থেকে শুরু করে ফুটপাতের হকারদের কাছ থেকেও দীর্ঘদিন ধরে চাঁদা আদায় করে আসছে কানা রমিজ খাঁ বাহিনী। চিকন্দী বাজারসহ আশপাশের কয়েকটি এলাকায় মানুষকে জিম্মি করে রেখেছে তারা। প্রতিবাদ করলে বাড়ি ঘরে হামলা, লুটপাট চালায় ওই বাহিনী।

চুন্নু মাদবর, এনামুল, আলমগীরসহ চিকন্দী বাজারের অনেক ব্যবসায়ী জানান, ব্যবসায়ীরা কানা রমিজ খাঁ বাহিনীর অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন। তাদের ভয়ে ব্যবসা করতে পারছেন না। ব্যবসায়ীরা রমিজ খাঁ ও তার বাহিনীর কাজ থেকে ৭ লাখ ৫৪০ টাকা টাকা পাবেন। তাদের কাছে টাকা চাইলে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেয়া হয়। তাই রমিজ খাঁ বাহিনীর অন্যায়-অত্যাচার থেকে রক্ষা পেতে ও পাওনা টাকা আদায় করতে গত ৭ ডিসেম্বর শরীয়তপুরের পুলিশ সুপার বরাবর একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন ব্যবসায়ীরা।

চিকন্দী বাজারের চায়ের দোকানদার বিল্লাল হোসেন ফকির বলেন, তার কাছ থেকে চা খেতে এসেছিল কানা রমিজ খাঁর ছেলে ও তার বাহিনীর কয়েকজন। চা দিতে একটু দেরি হওয়ায় তাকে বেধরক পিটিয়ে আহত করেছে তারা। তাদের ভয়ে মামলা করার সাহস পাইনি।

স্থানীয় গরু ব্যবসায়ী বাবুল ফকির বলেন, রমিজ খাঁর বাড়িতে অনুষ্ঠানে আমার কাছ থেকে গরু কিনে নেন রমিজের ছেলে মোদাচ্ছের। কিন্তু কিছু টাকা পরিশোধ করলেও দুই লাখ ৫০ হাজার টাকা পাঁচ বছর যাবৎ দিচ্ছি দেব বলে ঘুরাচ্ছে। টাকা চাইতে গেলে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দিচ্ছে তারা। এ বিষয়ে স্থানীয় এমপি, চেয়ারম্যান, মেম্বার ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের কাছে জানিয়েও কাজ হয়নি।

তবে অভিযুক্ত কানা রমিজ খাঁ জানান, তিনি ও তার সন্তানরা চাঁদাবাজি করেন না। তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করছে কিছু খারাপ লোক।

শরীয়তপুরের পুলিশ সুপার আব্দুল মোমেন বলেন, বিয়ষটি নিয়ে তদন্ত করছি, প্রমাণ পেলে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কেউ যদি চাঁদাবাজি করে, সাধারণ মানুষকে হয়রানি করে, তাহলে তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।

ছগির হোসেন/আরএআর/এমকেএইচ