দেশজুড়ে

পাঁচ লাখ টাকা হলেই সাথীকে বাঁচানো সম্ভব

৬ বছর বয়সী শিশু সাথীর মৃত্যুর প্রহর গুনছে তার পরিবার। উন্নত চিকিৎসা করানোর অবস্থা না থাকায় পেশায় অটোচালক বাবা মেয়েকে দিচ্ছেন হোমিও চিকিৎসা।

সাথী ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার সনগাঁও গ্রামের মো. শরিফুল্লাহ’র মেয়ে। স্থানীয় ব্র্যাক স্কুলের কেজি ওয়ানের ছাত্রী সে।

সাথীর বাবা শরিফুল্লাহ্ জাগো নিউজকে বলেন, অটো চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করি। চার ছেলে মেয়ের মধ্যে সাথী দ্বিতীয়। বড় মেয়ে দশম শ্রেণিতে পড়ে। অভাবের সংসার। ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা চালিয়ে প্রতিদিন ৩-৪শ টাকা রোজগার হয়। সেটা দিয়েই চলে আমার পরিবার। এরই মধ্যে সাথী অসুস্থ হয়ে পড়লে গত ১৮ নভেম্বর তার পরীক্ষা-নিরীক্ষার রিপোর্ট দেখে ডাক্তার বলেছেন, ক্যান্সার হয়েছে।

সাথীকে প্রথমে ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালে, পরে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে যাওয়ার পর ক্যান্সার বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডা. কামরুজ্জামান পুনরায় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে জানিয়ে দেন সাথীর ক্যান্সার হয়েছে। চিকিৎসা করালে সুস্থ হয়ে যাবে।

সাথীর বাবা আরও বলেন, ক্যান্সার ধরা পড়ার পর সাথীকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাই। সেখানকার চিকিৎসক জানিয়েছেন, সাথীকে সুস্থ করতে সব মিলিয়ে ৫-৬ লাখ টাকা খরচ হবে। অনেক টাকা খরচ হবে জেনে মেয়েকে নিয়ে বাড়ি ফিরে এসেছি। এরপর আর চিকিৎসা করানো হয়নি। এখন বাড়িতে হোমিও চিকিৎসা করছি। তার উন্নত চিকিৎসা করানোর মতো সামর্থ আমার নেই।

তিনি বলেন, হৃদয়বান মানুষগুলো নাকি নিরবে শিশুদের পাশে দাঁড়ায়। আমার মেয়ের পাশে যদি কেউ দাঁড়াতো। বাড়িতে মেয়ে সাথীকে নিয়ে মৃত্যুর প্রহর গুনতে থাকা মা পারভীন আক্তারও মেয়েকে বাঁচাতে সহযোগিতা চেয়েছেন।

বালিয়াডাঙ্গীর শহীদ আকবর আলী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি কলেজের প্রভাষক আব্দুল আওয়াল জানান, পরিবারটি খুব অসহায়। ফুটফুটে মেয়েটিকে চিকিৎসা করাতে পারছে না তার বাবা। চিকিৎসা করাতে পারলে সাথী হয়তো সুস্থ হয়ে যাবে। চিকিৎসা না পেলে মারা যাবে মেয়েটি। শিশু সাথীর জন্য হৃদয়বান মানুষদের সহযোগিতা পাওয়ার চেষ্টা করছি তবে এখনও কারও সাড়া মেলেনি।

স্থানীয় দওসূও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম জাগো নিউজকে বলেন, মেয়েটির বিষয়ে আমাকে কেউ জানায়নি। আমার কাছে এলে শিশু মেয়েটির চিকিৎসার জন্য ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে যতটুকু সম্ভব সহযোগিতা করা হবে।

সাথীর বিষয়ে বিস্তারিত জানতে ও সহযোগিতার জন্য যোগাযোগ করতে পারেন ০১৩১৮০৫৫৬৩৪ (বিকাশ) তার বাবা মো. শরিফুল্লাহ’র সঙ্গে।

আকরামুল ইসলাম/এমএএস/এমএস