দেশজুড়ে

বিজিএফসিএলে পরিবহন ঠিকাদার নিয়োগে অনিয়ম

পরিবহন ঠিকাদার নিয়োগে বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি লিমিটেডের (বিজিএফসিএল) বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। শর্ত লঙ্ঘন করে বেশি দর দিয়ে একই প্রতিষ্ঠানকে বারবার কাজ দেয়া হচ্ছে। এতে করে কোম্পানির লোকসান হলেও পকেট ভরছে কিছু কর্মকর্তার। কোম্পানির মহাব্যবস্থাপক পদের এক কর্মকর্তা ছাড়াও একাধিক কর্মকর্তা এই অনিয়মের সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে।

জানা গেছে, বিজিএফসিএল’র প্রধান কার্যালয়টি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শহরের বিরাসার এলাকায় অবস্থিত। এ কোম্পানির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নানা কাজে ব্যবহারের জন্য ঠিকাদারের মাধ্যমে গাড়ি সরবরাহ নেয়া হয়। প্রতি তিন বছরের জন্য একজন ঠিকাদার নিয়োগ পান। অভিযোগ উঠেছে গত ১০ বছর ধরে একই ঠিকাদারকে দেয়া হচ্ছে পরিবহন সরবরাহের কাজ। অন্য ঠিকাদাররা কম মূল্যে গাড়ি সরবরাহের জন্য দরপত্র জমা দিলেও কৌশলে তাদেরকে বাদ দেয়া হচ্ছে।

এ বছরও মেসার্স তানুরা এন্টারপ্রাইজ নামে ওই প্রতিষ্ঠানকে পরিবহন সরবরাহে দরপত্র ছাড়াই ঠিকাদার নিয়োগ দিয়েছে বিজিএফসিএল কর্তৃপক্ষ। চলতি বছরের ৩১ জানুয়ারি বিজিএফসিএল’র সঙ্গে পূর্বের চুক্তির মেয়াদ শেষ হলে গোপনে নিয়ম-নীতি লঙ্ঘন করে তানুরা এন্টারপ্রাইজের সঙ্গে আবারও চুক্তি করে বিজিএফসিএল।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বিজিএফসিএল'র প্রধান কার্যালয় ও বিভিন্ন লোকেশন থেকে সর্বোচ্চ ৭.৪০ কিলোমিটার পর্যন্ত সরবরাহকৃত মাইক্রোবাস যাতায়াতে মেসার্স তানুরা এন্টারপ্রাইজ নামে ওই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ২০১৩ সালের মে মাসে ৪৫০ টাকা দরে চুক্তি করা হয়। চুক্তির অন্যতম শর্ত ছিল কোনো মাইক্রোবাস ২০০৪ মডেলের বেশি পুরোনো হতে পারবে না৷ ঠিকাদার নিযুক্ত হওয়ার পর মেসার্স তানুরা এন্টারপ্রাইজ বিভিন্ন মডেলের মোট ১৮টি মাইক্রোবাস সরবরাহ করে। কিন্তু কোম্পানির কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে চুক্তির শর্ত লঙ্ঘন করে ঠিকাদার পুরাতন মাইক্রোবাস দিয়েই পরিবহন কাজ চালিয়ে যায়।

২০১৭ সালে তানুরা এন্টারপ্রাইজের সঙ্গে চুক্তি শেষ হলে দরপত্র আহ্বান করে বিজিএফসিএল। এতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজের সাবেক ভিপি এমদাদুল হক চৌধুরী সর্বনিম্ন ৭০০ টাকা দর উল্লেখ করে দরপত্র জমা দিলেও কোম্পানি তার সঙ্গে চুক্তি না করে আড়াই গুণ বেশি দরদাতা মেসার্স তানুরা এন্টারপ্রাইজের সঙ্গে এক হাজার ৭০০ টাকায় চুক্তি করে। গত ৩১ জানুয়ারি বিজিএফসিএল’র চুক্তি শেষ হলে তানুরা এন্টারপ্রাইজের সঙ্গেই গোপনে আবার চুক্তির প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। এবার কাজ দিতে ২৫ লাখ টাকার ‘গোপন লেনদেন’ হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগ উঠেছে, বিজিএফসিএল’র মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) শাহ আলমের প্রবল আগ্রহের কারণেই মেসার্স তানুরা এন্টারপ্রাইজের সঙ্গে আবারও চুক্তি করা হয়েছে।

বিগত সময়ে এ কাজের দরপত্রে অংশগ্রহণকারী এমদাদুল হক চৌধুরী বলেন, সিঙ্গেল টেন্ডারে কোম্পানির কর্মকর্তারা ঘুষ খেয়ে ঠিকাদার নিয়োগ দিচ্ছে। আমি এর আগে টেন্ডার দিলে জোর করে আমাকে বাদ দেয়া হয়। এভাবে তারা সরকারের কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করছে।

ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান মেসার্স তানুরা এন্টারপ্রাইজের মালিক কাজী ইকবাল হোসেন বলেন, নিয়ম মেনেই চুক্তি করা হয়েছে। পুরোনো গাড়ি নয়, চুক্তি অনুযায়ী গাড়ি দিয়েই পরিবহনের কাজ চলছে।

বিজিএফসিএল’র মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) শাহ আলম বলেন, পিপিআর অনুযায়ী আমরা পুরাতন ঠিকাদারের সঙ্গে চুক্তি করতে পারি। যদি তারা চুক্তি অনুযায়ী কাজ না করে তাহলে বিষয়টি কোম্পানি দেখবে। আর গাড়ির বিষয়টি দেখে অন্য ডিপার্টমেন্ট৷ আমার কাজ শুধু ফাইলে স্বাক্ষর করা।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বিজিএফসিএল’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মো. তৌফিকুর রহমান তপু বলেন, নিয়ম-নীতি লঙ্ঘন করে কোনো কিছু করা হয়নি।

আজিজুল সঞ্চয়/আরএআর/এমএস