দেশজুড়ে

হিসাব রাখার দায়িত্ব নিয়ে অর্থ আত্মসাৎ

বেতনের বিনিময়ে হিসাব রাখার দায়িত্ব নিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শহরের একটি বেসরকারি হাসপাতালের এক অংশীদারের বিরুদ্ধে। আত্মসাতকৃত টাকা ফেরত চাওয়ায় ভুক্তভোগী বাকি অংশীদারদের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে বলে হুমকি দিয়েছেন তিনি।

এ ঘটনায় সদর মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন হাসপাতালের ভুক্তভোগী চারজন অংশীদার। মঙ্গলবার (১১ ফেব্রুয়ারি) অংশীদারদের পক্ষে আনোয়ার হোসেন তালুকদার নামে এক অংশীদার এ লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগে বিবাদী করা হয়েছে হাসপাতালের অংশীদার মাসুদ মিয়া, তার স্ত্রী আমেনা বেগম ও ছেলে ইকরাম হোসেনকে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরশহরের কুমারশীল মোড় এলাকার গ্রামীণ জেনারেল হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে কয়েকজন চিকিৎসকসহ ২৮ জন অংশীদারের ৩৬টি অংশ রয়েছে। অংশীদাররা সবসময় হাসপাতালে সময় দিতে না পারার কারণে মাসুদ মিয়াকে বেতন দিয়ে হাসপাতালের হিসাব রাখার দায়িত্ব দেন।

মাসুদকে দায়িত্ব দেয়ার পর থেকেই তার ছেলে ইকরাম হোসেন ও স্ত্রী আমেনা বেগম হাসপাতালে বহিরাগত লোকজন নিয়ে অনৈতিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছেন। সম্প্রতি রেজুলেশন অনুযায়ী হাসপাতালের অংশীদারদের মতামতের ভিত্তিতে হাসপাতালের একজন অংশীদার ও চিকিৎসক সাইফ উদ্দিন খান শুভ্রকে চেয়ারম্যান মনোনীত করা হয়।

এরপর অংশীদাররা মাসুদ মিয়ার কাছে হাসপাতালের হিসাব চাইলে চার লাখ ৪৭ হাজার টাকা আছে বলে জানান। কিন্তু সেই টাকা ফেরত চাইলে মাসুদ টালবাহানা শুরু করেন। গত ৮ ফেব্রুয়ারি সকালে মাসুদের কাছে পুনরায় টাকা চাইলে তিনি বহিরাগতদের দিয়ে হুমকি দেন। এ সময় তার স্ত্রীকে দিয়ে নারী নির্যাতন মামলা করে জেল খাটানো হবে বলেও অংশীদারদের হুমকি দেয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

জানতে চাইলে মাসুদ মিয়া বলেন, একটি অভিযোগের কথা জানতে পেরেছি। তবে কি অভিযোগ করা হয়েছে তা জানি না। সদর মডেল থানার পরিদর্শক ইশতিয়াক আহমেদ হাসপাতালে এসেছিলেন। তিনি বলে গেছেন কাগজপত্র নিয়ে থানায় যেতে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানা পুলিশের পরিদর্শক (অপারেশন) ইশতিয়াক আহমেদ বলেন, অভিযোগের বিষয়টি আমরা তদন্ত করছি। উভয় পক্ষকে তাদের নিজ নিজ কাগজপত্র নিয়ে থানায় আসতে বলা হয়েছে।

আজিজুল সঞ্চয়/এএম/জেআইএম