বর্ণমালা হাতে শত শিক্ষার্থীর সমবেত কণ্ঠে উচ্চারিত হলো অমর একুশের কালজয়ী গান ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি’। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে বৃহস্পতিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) কক্সবাজারের রামু উপজেলা শহীদ মিনার চত্বরে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
রামু উপজেলা নির্বাহী অফিসার প্রণয় চাকমার ব্যতিক্রমী এ আয়োজনে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) চাই থোয়াইলা চৌধুরী, রামুর সাংস্কৃতিক অঙ্গনের শিল্পী, উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা অংশ নেন।
ইউএনও প্রণয় চাকমা বলেন, মুজিববর্ষে ভাষা শহীদদের সম্মান জানানো এবং শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে ভাষা আন্দোলনের তাৎপর্য সর্বস্তরে ছড়িয়ে দেয়ার লক্ষ্যে বর্ণমালা হাতে এভাবে সমবেত কন্ঠে ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারী, আমি কি ভুলিতে পারি’ গানটি পরিবেশনের উদ্যোগ নেয়া হয়।
বেতার কক্সবাজার কেন্দ্রের সংগীত প্রযোজক কণ্ঠশিল্পী বশিরুল ইসলাম জানান, বর্ণমালার প্রতি আকর্ষণ বৃদ্ধি এবং ভাষা আন্দোলনকে শিশু শিক্ষার্থীদের হৃদয়ে ধারণ করতে এ উদ্যোগ প্রশংসার দাবি রাখে। ভাষা শহীদদের স্মরণে এ গানটি কেবল বছরের একটি দিনই গাওয়া হয়। এছাড়া গানটির তেমন চর্চা থাকে না। তাই এ ধরনের উদ্যোগের ফলে শিক্ষার্থীরা গানটি আরও বেশি চর্চার সুযোগ পাবে।
রামু উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সুমথ বড়ুয়া জানান, বর্ণমালা হাতে অমর একুশের কালজয়ী গান পরিবেশনের মাধ্যমে ভাষা সৈনিকদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা হলো। এর ফলে শিক্ষার্থীরা উৎসাহ-উদ্দীপনার মাধ্যমে মাতৃভাষার অধিকার আন্দোলনের ইতিহাস জানতে পারবে। প্রণয় চাকমা ইউএনও হিসেবে রামুতে যোগদানের পর থেকে একের পর সৃজনশীল কর্মকাণ্ড এবং কর্মদক্ষতা দিয়ে মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছেন। মুজিববর্ষে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের তাৎপর্য নিয়ে এ আয়োজনও সর্বত্র প্রশংসিত হচ্ছে।
জানা গেছে, রামু খিজারী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, রামু উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়, বাঁকখালী উচ্চ বিদ্যালয়, রামু কলেজ বিএনসিসি, রামু কেন্দ্রীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মন্ডলপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, রামু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বার্মিজ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ আরও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিশু শিক্ষার্থীরা অনুষ্ঠানে বর্ণমালা বর্ণ হাতে নিয়ে একুশের গান পরিবেশন করে।
সায়ীদ আলমগীর/আরএআর/জেআইএম