দেশজুড়ে

ফেনসিডিলের খালি বোতল কুড়িয়ে জীবন চলে শিশুটির

ভালো-মন্দ, অপরাধ, শাস্তি বা আইন কোনো কিছুই বোঝার বয়স হয়নি শিশুটির। তবে এরই মধ্যে হাতে তুলে নিয়েছে ফেনসিডিলের খালি বোতল। ফেনসিডিলের খালি বোতল কুড়িয়ে মাদক বিক্রেতাদের দিতে হয় শিশুটির। তার বিনিময়ে কিছু টাকা পায় সে।

সাতক্ষীরা ভোমরা স্থলবন্দর সীমান্তের ঘোষপাড়া এলাকার চিত্র এটি। শুক্রবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে দেখা যায়, একটি এক নারীর (৩০) সঙ্গে ৭-৮ বছরের এক শিশুকে দেখা যায় ফেনসিডিলের খালি বোতল কুড়াতে। বোতল কুড়িয়ে বস্তায় ভরছে শিশুটি। ছবিটি ধারণ করার আগে ২৫০-৩০০ ফেনসিডিলের খালি বোতল কুড়ানো শেষ হয়েছে তার।

ছবিটি ধারণ করার সময় ওই নারী জানান, রাস্তার পাশে খালি বোতল পড়ে আছে, খারাপ দেখায়। তাই কুড়াচ্ছি। এগুলো কি করবেন এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, কারখানায় বিক্রি করব।

ঠিক ওই সময় তার সঙ্গে থাকা শিশুটি জানায়, আমরা এসব বোতল কুড়িয়ে বিক্রি করি। প্রতি বোতলের জন্য আমাকে ৪-৫ টাকা করে দেয়। তবে কারা টাকা দে সে প্রশ্নের উত্তর দিতে পারেনি শিশুটি। এ বিষয়ে ওই নারীও ছিলেন নীরব।

সাতক্ষীরার ভোমরা সীমান্তে মাদকের চোরাচালানের খবরটি নতুন নয়। মাদকসেবীরা দলবেঁধে হাজির হয় ভোমরা সীমান্ত এলাকায়। সীমান্তকে মাদক সেবনের নিরাপদ স্থান হিসেবে মনে করে মাদকসেবীরা।

পরিচয় গোপন রাখার শর্তে একজন মাদকসেবী জানান, ভোমরায় সবসময় ফেনসিডিল পাওয়া যায়। রাত-দিন ব্যাপার নয়। ভোমরা লক্ষ্মীদাড়ি সীমান্তে ফেনসিডিল বিক্রি করেন উল্লেখযোগ্য কয়েকজন। সীমান্তের ঘোষপাড়ায় বিক্রি করে দিলীপ কুমার ঘোষ। আলীপুরে বিক্রি করেন সেলিনা বেগম। সাতক্ষীরা শহরের বিনেরপোতা এলাকার শিমুলও সীমান্ত এলাকায় মাদক বিকিকিনি করেন। লক্ষ্মীদাড়ি সীমান্তের বিপরীতে ভারতে বিক্রি করেন শ্যাম পদ। শহরের দিকে মাদক সেবন করতে গেলে অনেক সময় পুলিশ প্রশাসনের ঝামেলায় পড়তে হয়। তবে সীমান্তে এলে ঝামেলায় পড়তে হয় না।

প্রশাসনের নজরদারির মধ্যে কিভাবে মাদক বিক্রি হচ্ছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রশাসন যেমন তৎপর তেমন মাদক বিক্রেতারও তৎপর। প্রশাসনের যেমন কৌশল রয়েছে তেমন নতুন নতুন কৌশলে ভারত থেকে মাদক নিয়ে এসে বিক্রি অব্যাহত রেখেছে মাদক ব্যবসায়ীরা।

এ বিষয়ে সাতক্ষীরা ৩৩ বিজিবির অধিনায়ক মোহাম্মদ গোলাম মহিউদ্দিন খন্দকার বলেন, সীমান্তে মাদক চোরাচালান বা মাদক বিকিকিনির সুযোগ নেই। আমরা নিয়মিত মাদকবিরোধী অভিযান চালাই। মাদকসেবী ও বিক্রেতাদের আমরা আটক করে আইনের আওতায় নিয়ে আসছি। মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান আমাদের অব্যাহত রয়েছে।

সীমান্ত থেকে ফেনসিডিলের বোতল কুড়াতে দেখা গেছে; অভিযানের মধ্যে কিভাবে এসব চলছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সীমান্তের রাস্তায় ২-১টি বোতল থাকতে পারে। তবে ২০০-৩০০ বোতল কুড়িয়ে বিক্রির বিষয়টি সঠিক নয়। সীমান্তের যেকোনো চোরাচালান, মাদকরোধে বিজিবি কাজ করছে। মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান চলছে।

আকরামুল ইসলাম/এএম/এমএস