খেলাধুলা

এবার যুক্তরাষ্ট্রকেই বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়ার দাবি ইরানের

ইরানে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলা ও যুদ্ধের প্রভাব এবার ফুটবল বিশ্বকাপকেও ঘিরে ফেলেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের মধ্যে ২০২৬ সালের বিশ্বকাপে ইরানের অংশগ্রহণ এখন অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে।

সপ্তাহের শুরুতে এক সংবাদ সম্মেলনে ইরানের ক্রীড়ামন্ত্রী আহমদ দোয়নামালি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে খেলতে যাওয়ার মতো নিরাপত্তা নিশ্চয়তা না থাকায় তাদের দল বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া থেকে সরে দাঁড়ানোর কথা ভাবছে।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ বক্তব্য নাকচ করে দেন। তিনি বলেন, চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি সত্ত্বেও ইরান ফুটবল দল বিশ্বকাপে অংশ নিতে চাইলে তাদের স্বাগত জানানো হবে। তবে একই সঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন, নিরাপত্তার কারণে তাদের যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়া উপযুক্ত নাও হতে পারে।

ট্রাম্পের এই মন্তব্যের জবাবে ইরান জানিয়েছে, কেউ তাদের বিশ্বকাপ থেকে বাদ দিতে পারে না। এতে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে- ইরান সত্যিই কি টুর্নামেন্ট থেকে সরে দাঁড়াবে, নাকি অংশ নেওয়ার বিষয়টি এখনও বিবেচনায় রাখছে।

এদিকে ইরান ফুটবল ফেডারেশন পাল্টা মন্তব্য করে বলেছে, যদি যুক্তরাষ্ট্র নিজেই ইরানি খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পারে, তাহলে আয়োজক দেশ হিসেবেই বরং যুক্তরাষ্ট্র দলকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়া উচিত।

২০২৬ সালের বিশ্বকাপে ইরানকে রাখা হয়েছে ‘জি’ গ্রুপে। সেখানে তাদের প্রতিপক্ষ বেলজিয়াম, নিউজিল্যান্ড ও মিশর। গ্রুপ পর্বের তিনটি ম্যাচই যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। লস অ্যাঞ্জেলেস ও সিয়াটল শহরে ইরানের ম্যাচগুলো আয়োজনের সূচি নির্ধারিত হয়েছে।

ইরানের অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যেও প্রভাব পড়েছে। টুকসন শহরের কিনো স্পোর্টস কমপ্লেক্সকে বিশ্বকাপ চলাকালে ইরান ফুটবল দলের প্রশিক্ষণ শিবির হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছিল।

ইরান সেখানে থাকলে স্থানীয় অর্থনীতিতে বড় ধরনের আয়ের সুযোগ তৈরি হতো এবং অনেক মানুষের কর্মসংস্থান হতো। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতির কারণে সেই পরিকল্পনা আপাতত স্থগিত হয়ে গেছে।

অন্যদিকে, ইরান ফুটবল ফেডারেশনের প্রতিনিধিরা বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার বার্ষিক কংগ্রেসে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে। আগামী ৩০ এপ্রিল কানাডার ভ্যাঙ্কুভারে এই সভা অনুষ্ঠিত হবে।

বিশ্বকাপ ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়তে থাকায় শেষ পর্যন্ত ইরান আদৌ টুর্নামেন্টে অংশ নেবে কি না- সেটিই এখন ফুটবল বিশ্বে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আইএইচএস/