দেশজুড়ে

থাকেন টয়লেটে, ফাঁসাতে গিয়ে নিজেই আটক মাদক কারবারি

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে পূর্ব শত্রুতার জেরে আওয়ামী লীগ নেতাকে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসানোর চেষ্টার অপরাধে রুবেল মিয়া (২৫) নামে এক মাদক কারবারিকে ২০০ পিস ইয়াবাসহ আটক করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার রাতে মির্জাপুর থানা পুলিশ উপজেলার লতিফপুর গ্রাম থেকে তাকে আটক করেন। তিনি ওই গ্রামের খলিলুর রহমানের ছেলে।

এলাকাবাসী ও পুলিশ জানায়, লতিফপুর গ্রামের আতাউর রহমানের ছেলে মিজানুর রহমান ও রুবেল মিয়া দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক ব্যবসা করে আসছিলেন। লতিফপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. আলহাজ সিকদার তাদের মাদক ব্যবসায় বাধা হয়ে দাঁড়ান। এতে তারা ওই নেতার ওপর ক্ষিপ্ত হন। মিজান তার এক সহযোগী রুবেলকে দিয়ে কৌশলে ২০০পিস ইয়াবা আওয়ামী লীগ নেতা আলহাজ সিকদারের বাড়ির মুরগির খাঁচায় রাখেন। পরে তারাই পুলিশকে খবর দেন। পুলিশের উপপরিদর্শক আবুল বাশারের নেতৃত্বে পুলিশ সদস্যরা আলহাজ সিকদারের বাড়িতে তল্লাশি করে ইয়াবা না পেয়ে রুবেলকে খবর দিয়ে ঘটনাস্থলে আনেন। রুবেল ওই বাড়িতে গিয়েই মুরগির খাঁচা থেকে ২০০ পিস ইয়াবা বের করলে তাদের সন্দেহ হয়। পরে পুলিশ রুবেলকে আটক করেন।

ঘটনার মূলহোতা মিজানকে ধরতে পুলিশি তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। এদিকে পুলিশের হাত থেকে রক্ষা পেতে মিজানুর তার বাড়ির টয়লেটটি থাকার ঘর হিসেবে ব্যবহার করছেন বলে জানা গেছে। ওই টয়লেটের ভেতর খাট, বিছানাসহ যাবতীয় সরঞ্জান রয়েছে।

মির্জাপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) খাইরুল বাশার মোল্লা জানান, মিজানুর রহমান ও রুবেল পেশাদার মাদক ব্যবসায়ী। গ্রেফতার এড়াতে মিজানুর বাড়িতে থাকা পাকা টয়লেটটি থাকার ঘর হিসেবে ব্যবহার করছে। বাইরে থেকে বুঝার উপায় নেই টয়লেটটি থাকার ঘর। মিজানুরকে গ্রেফতারে পুলিশ কাজ করছে বলে তিনি জানান।

মির্জাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. সায়েদুর রহমান বলেন, মাদক ব্যবসায়ীরা আওয়ামী লীগ নেতাকে ফাঁসানোর জন্য কৌশলে তার বাড়িতে ইয়াবা রাখেন। ঘটনার ম‍ূলহোতাকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। রুবেলের বিরুদ্ধে মাদক আইনে মামলা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

এস এম এরশাদ/এমএআর/পিআর