শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলায় জমি দখল করে ঘর তুলতে বাধা দেয়ায় তিনজনকে কুপিয়ে আহত করেছে প্রতিপক্ষের লোকজন। মঙ্গলবার রাত আড়াইটার দিকে উপজেলার ভোজেশ্বর ইউনিয়নের উপসী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় বুধবার (২৫ মার্চ) দুপুরে নড়িয়া থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে।
আহতরা হলেন- উপসী গ্রামের কালু সরদারের মেয়ে মনি বেগম (৩৫), পারভীন বেগম (৩০) ও স্ত্রী রিনা বেগম (৬৫)। আহত দুজনকে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, নড়িয়া উপজেলার ভোজেশ্বর ইউনিয়নের উপসী গ্রামের হামিদ ছৈয়ালের সঙ্গে একই গ্রামের কালু সরদারের আট বছর ধরে উপাসী মৌজার ৫১ শতাংশ জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। মঙ্গলবার রাত আড়াইটার দিকে হামিদ ছৈয়ালের নেতৃত্বে তার ছেলে সবুজ ছৈয়াল, মনির হোসেন ছৈয়াল, মেয়ের জামাই সোহেল শিকদারসহ ২৫-৩০ জন বিরোধপূর্ণ জমিতে ঘর উত্তোলন করে টিনের বেড়া দেয়।
এ সময় কালু সরদারের পরিবারের লোকজন বাধা দিলে মনি, পারভীন ও রিনাকে কুপিয়ে জখম করা হয়। মনি ও পারভীনকে গুরুতর অবস্থায় শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করে স্থানীয়রা। পাশাপাশি আহত রিনাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। এ ঘটনায় কালু সরদারের পক্ষ থেকে নড়িয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়।
কালু সরদারের মেয়ে পারভীন বেগম বলেন, ৫১ শতাংশ জমি নিয়ে আমার বাবার সঙ্গে হামিদ ছৈয়ালদের দ্বন্দ্ব চলছে। জমিগুলো আমার বাবার। মঙ্গলবার রাত আড়াইটার দিকে হামিদ ছৈয়ালের নেতৃত্বে ২৫-৩০ জন আমাদের ৩০ শতাংশ জমি দখল করে টিন দিয়ে ঘর তুলছিল ও বেড়া দিচ্ছিল। তখন আমরা গিয়ে বলি, আমাদের যায়গায় ঘর তুলছেন কেন? বলার সঙ্গে সঙ্গে দা, কুড়াল, লোহার রড, লাঠি নিয়ে আমাদের ওপর হামলা চালায় হামিদ ছৈয়াল ও তার লোকজন। হামলা চালিয়ে আমার বড় বোন মনিকে কুপিয়ে জখম করা হয়। পরে আমাদের ঘর লুট করে স্বর্ণ, টাকা-পয়সা নিয়ে যায়।
নড়িয়া থানা পুলিশের ভরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাফিজুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় একপক্ষ থানায় একটি অভিযোগ করেছে। বিষয়টি নিয়ে পুলিশ তদন্ত করছে। তদন্ত শেষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মো. ছগির হোসেন/এএম/এমএস