দুইদিন আগে যিনি ‘ভাই পুলিশ, মাইরেন না’ শিরোনামে কলাম লিখছেন, এখন রাস্তার অবস্থা দেখে কী বলবেন? ঘরে বসে কলম হাতে নিয়ে অনেক কিছু লেখা যায়। কারণ কলমটাও আপনার, কাগজটাও আপনার। কিন্তু বাইরের বাস্তবতা খুবই কঠিন।সাহিত্যের চর্চা দিয়ে পাবলিক কন্ট্রোল করা যায় না। এ কাজ ভিন্ন। এখানে আবেগের চেয়ে বাস্তবতা বেশি।
মিষ্টি কথায় কাজ হলে কেউ কঠিন ভাষা ব্যবহার করতে চায় না। আমরা আসমান থেকে উড়ে আসিনি। এদেশের মানুষের মধ্যে থেকেই পুলিশ হয়েছি। এদেশের মানুষের সাইকোলজি কিছুটা হলেও বুঝি। জাতি হিসেবে আমরা ‘শক্তের ভক্ত, নরমের যম’। তাই ভয় না পেলে আমরা কিচ্ছু মানি না। নিজের ক্ষতি তো বুঝিই না, নিজের লাভটাও না। পুলিশের বিপক্ষে লিখে পরিস্থিতির যারা বারোটা বাজিয়েছেন, এবার পক্ষে কিছু লিখে জনগণকে ঘরে রাখতে পুলিশকে সহযোগিতা করুন। প্লিজ।
জানি, সেটা হয়তো করবেন না। এতে আবার ‘ছোট’ হয়ে যাওয়ার ভয় থাকতে পারে। এতবড় মানুষ আপনারা। ছোট হবেন কী করে! তবে একটা কথা বলি শুনুন। যেভাবে পুলিশকে উপস্থাপন করেছেন, আসলে আমরা এতটা বিবেচনাহীন নই। পত্রিকায় যা লেখা হয়, সব যেমন দেখেন, বাস্তবে সবসময় তেমন হয় না। কে কাজে বের হয়, আর কে অকাজে বের হয়, সেটুকু বোঝার ক্ষমতা মহান আল্লাহ দিয়েছেন। লকডাউনের পর পার্কে কেউ বাজার করতে যায় না। রাস্তার মোড়ে বন্ধ থাকা দোকানের পাশে দাঁড়িয়ে আড্ডা দেয়া উঠতি বয়সী ছেলেরা কেউ বাজারে যাওয়ার জন্য বের হয় না। এটুকু বিচার বিবেচনায় ক্ষমতা আমাদের আছে।
পুলিশের লাঠির সাথেও নাকি করোনা ছড়াতে পারে। সুপরিচিত এক লেখকের কল্যাণে করোনা বিস্তারের নতুন এক পদ্ধতির বিষয়ে বিশ্ববাসী জানতে পারলো। এ আবিষ্কারের অর্জন আমাদের জন্য গর্বের। কিন্তু জনাব, মানুষ যেভাবে সামাজিক দূরত্ব বজায় না রেখে ঘোরাঘুরি করছে, তাতে নিশ্চয় পুলিশের লাঠির সাহায্যে যে পরিমাণ ছড়ানোর আশঙ্কা আপনি করেছিলেন, তার থেকে বেশি বৈ কম ছড়াবে না। আপনাদের অমূল্য লেখাগুলো উদ্বুদ্ধ করেছে মানুষকে বাইরে বেরুতে, আপনারা কি তা অনুধাবন করতে পারছেন?
পুলিশ নিয়ে অনেকের চুলকানি আছে। পুলিশ হাজারটা ভালো করলেও অনেকের চোখে পড়ে না। কিন্তু একটা দোষ করলেই সেটি মনের আনন্দে প্রচার করে বেড়ায়। এতে পাবলিকের কাছে জনপ্রিয় হওয়া যায়। তাই যা ঘটে তার চেয়ে বাড়িয়ে বললেও দোষের কিছু নাই। পাবলিক তো খাবেই। ব্যবসা ভালো হবে। পাঠক বাড়বে। সাহিত্যে পদকপ্রাপ্তির সুযোগ সৃষ্টি হবে। আরও কত কী!
হতে পারে আপনারা মানবাধিকারের বিষয়ে অনেক বেশি সোচ্চার। অনেক বড় মানবাধিকারকর্মী। কিন্তু একবার ভেবে দেখেছেন, মানুষকে ঘরে রেখে পুলিশের লাভ কী? আর ঘরে না থাকলেও বা পুলিশের লসটা কী? করোনার নেই কোনো মেডিসিন। সবাই বলে ঘরে থাকতে। এখন কেবল সেটাই দাওয়াই। আর সেটা করতে পারলে দেশটা বাঁচবে। দেশই যদি না বাঁচে, দেশের মানুষই যদি না বাঁচে, মানবাধিকার দিয়ে কী করবো বলুন?
আমরা পুলিশ এদেশটাকে আমাদের মা-ই মনে করি। এ জন্য মাকেও বাঁচাতে চাই, মায়ের সন্তানদেরও বাঁচাতে চাই। আর সে জন্যই নানান উদ্যোগ নিই আপনাদের ঘরে রাখার। এই সুযোগে কোনো বিচ্যুতি পেলেই আপনারা আমাদের খিস্তি দিতে পারেন। দিয়ে যান, যত পারেন তত।
শেষে শুধু একটা কথাই বলবো, দেশের প্রতি দেশের মানুষের প্রতি পুলিশের ভালোবাসা আপনাদের থেকে একবিন্দুও কম না। হিসাব করে দেখুন, একটু বেশিই হবে! ধন্যবাদ।
লেখক : সহকারী পুলিশ সুপার (মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস)বাংলাদেশ পুলিশ, পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স, ঢাকা।
এইচআর/বিএ/জেআইএম