লাইফস্টাইল

নারীদের লুপাস ও আর্থ্রাইটিসের ঝুঁকি বেশি

নারীদের মধ্যে রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস এবং লুপাস বেশি দেখা যাওয়ার পিছনে রয়েছে জটিল কারণ। বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের রিউমাটোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ জানান এর মূল কারণ হল নারী শরীরের হরমোনাল ও ইমিউনোলজিক বৈশিষ্ট্য।

নারীদের শরীরে ইমিউন সিস্টেম তুলনামূলকভাবে বেশি সক্রিয় থাকে। এটি সংক্রমণ থেকে রক্ষা করতে সহায়ক হলেও কখনও কখনও নিজের শরীরের টিস্যুতে আক্রমণ করতে পারে। এভাবেই অটোইমিউন রোগ, যেমন লুপাস এবং রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস নারীদের মধ্যে বেশি দেখা যায়।

ডা. আজাদ আরও বলেন, এস্ট্রোজেন হরমোনের প্রভাব এই রোগগুলোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। নারী হরমোনের উপস্থিতি ইমিউন সিস্টেমকে অতিসক্রিয় করে, যা জয়েন্টে প্রদাহ এবং অঙ্গপ্রত্যঙ্গের ক্ষতির ঝুঁকি বাড়ায়। একই সঙ্গে জিনগত প্রভাবও রয়েছে। পরিবারে যদি কারও রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস বা লুপাস থাকে, তাহলে নারীরা তুলনামূলকভাবে বেশি আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

আরও পড়ুন: জয়েন্টের ব্যথা কি স্বাভাবিক? যা বলছেন চিকিৎসক বিয়ের অনেক বছর পার হলেও সন্তান হচ্ছে না? জীবনযাত্রার ভুলেই বাড়ছে ক্যানসারের ঝুঁকি

অতিরিক্ত স্ট্রেস, পরিবেশগত উপাদান যেমন দূষণ, ধূমপান এবং অনিয়মিত জীবনযাপনও রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তাই প্রাথমিক লক্ষণ চিহ্নিত করা গুরুত্বপূর্ণ। ডা. আজাদ বলেন, যদি জয়েন্টে দীর্ঘমেয়াদি ব্যথা, ফোলা, ক্লান্তি বা অজানা জ্বর দেখা দেয় তবে সময়মতো রিউমাটোলজির সঙ্গে পরামর্শ করা উচিত।

সমসাময়িক চিকিৎসা পদ্ধতিতে অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি ও ইমিউনো-মডুলেটরি ওষুধ ব্যবহারে রোগ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। তবে জীবনধারায় স্বাস্থ্যসম্মত অভ্যাস যেমন নিয়মিত ব্যায়াম, সুষম খাদ্য এবং মানসিক চাপ কমানো রোগের প্রকোপ কমাতে সাহায্য করে।

সর্বোপরি নারীদের মধ্যে এই রোগ বেশি দেখা যায় মূলত হরমোনাল, জিনগত এবং ইমিউন সিস্টেমের কারণে, যা সচেতনতা ও প্রাথমিক চিকিৎসার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

জেএস/