মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের পশ্চিম লইয়ারকুল এলাকায় গলাটিপে নৃশংসভাবে একটি বানরকে হত্যা করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে ৩১ মার্চ বানরটিকে হত্যা করা হয়।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পার্শ্ববর্তী এলাকা থেকে বানরটি খাবারের খোঁজে লোকালয়ে গেলে কৌশলে বানরটিকে ধরে ফেলে হত্যাকারীরা। পরে বস্তা দিয়ে ধরে গলাটিপে কুদ্দুস মিয়া, জামাল মিয়া ও সাহেব আলী মিলে প্রকাশ্যে গলা টিপে হত্যা করেন। এ সময় আরো ২/৩ জন তাদের সহযোগিতা করেন।
বানর হত্যার খবর ছড়িয়ে পড়লে শুক্রবার ঘটনাস্থলে যায় বনবিভাগ। প্রাথমিক ভাবে ঘটনার সত্যতা পায়। বনবিভাগের সঙ্গে থাকা প্রাণীপ্রেমী সোহেল শ্যাম পাপ্পু ও সৌরভ প্রসাদ সোম জানান, এলাকাবাসীর কাছ থেকে আমরা একটি ভিডিও উদ্ধার করেছি, ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে বানরটিকে খুবই নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। এতে হত্যার প্রমাণ রয়েছে। হত্যার আগেই বানরটিকে আহত করে ধরা হয়।
এ বিষয়ে শ্রীমঙ্গলের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা মোনায়েম হোসেন জানান, আমাদের লোকজন প্রাথমিক তদন্ত করে এর সত্যতা পেয়েছে। আমি নিজে শনিবার আবার যাব। এরপর এই ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে পিপল ফর এনিমেল ওয়েলফেয়ারের প্রতিষ্ঠাতা স্থপতি রাকিবুল হক এমিল বলেন, আমরা প্রায়ই বিভিন্ন বন্যপ্রাণী হত্যার খবর শুনি। এলাকাবাসী উল্লাস করে বন্যপ্রাণী হত্যা করে। মৃত প্রাণীর সঙ্গে সেলফিও তোলে। বহু হত্যাকাণ্ডের অকাট্য প্রমাণ থাকে এসব ছবিতে। এরপরও বনবিভাগকে খুব একটা দৃষ্টান্তমূলক আইনি ব্যবস্থা নিতে দেখা যায় না।
তিনি বলেন, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইন ২০১২ যেখানে বন্যপ্রাণীকে সুরক্ষা দেবে সেখানে এই আইনের প্রয়োগ খুব লঘুভাবে প্রকাশ পাচ্ছে। শ্রীমঙ্গলের এই ঘটনাটি একইসঙ্গে নৈতিক অবক্ষয় এবং আইন লঙ্ঘনের ধৃষ্টতা দেখিয়েছে। এর উপযুক্ত শাস্তির দাবি জানাই এবং প্রয়োজনে বনবিভাগের পাশে থাকবে আমার সংগঠন।
রিপন দে/এফএ/এমএস