দেশজুড়ে

ব্যবসায়ীদের চোর-পুলিশ খেলায় হেনস্তা হলেন মা-মেয়ে

লকডাউনের মধ্যে ৯ বছর বয়সী মেয়ের জন্য ঈদের শপিং করতে এসে চোখের জল ফেলতে হয়েছে এক মাকে। পুলিশের ভয়ে জুতার দোকান থেকে বের হয়ে মা-মেয়ে চলে যান যে যার মতো। অনেকক্ষণ খোঁজাখুঁজি করেও মেয়ের সন্ধান পাননি মা।

আজ শুক্রবার সকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার সড়ক বাজারে এ ঘটনা ঘটে। মায়ের চোখে জল দেখে মেয়েকে খুঁজতে পুলিশই আবার মাইকিং করে। প্রায় এক ঘণ্টা পর জানা যায় ৯ বছরের ওই শিশু বাড়িতে চলে গেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঈদের কেনাকাটার জন্য স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত পরিসরে মার্কেট খোলা রাখার অনুমতি দিয়েছে সরকার। তবে জনস্বাস্থ্যের কথা বিবেচনা করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিভিন্ন বিপণী বিতানের ব্যবসায়ীরা দোকান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু এ সিদ্ধান্ত না মেনে অনেকেই দোকান খুলছেন। প্রশাসন ও পুলিশের চোখ এড়াতে খুব সকাল থেকেই আখাউড়া পৌর এলাকাসহ গ্রামগঞ্জের সব দোকানপাট খুলে বসেন ব্যবসায়ীরা। ভ্রাম্যমাণ আদালত, পুলিশ কিংবা সংশ্লিষ্টরা এলেই কিছু সময়ের জন্য দোকান বন্ধ রাখা হয়। গত তিন-চারদিন ধরে আখাউড়ায় ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে চলছে এমন চোর-পুলিশ খেলা।

শুক্রবার সকালে সালমা বেগম নামে ওই নারী ঈদের বাজার করতে আখাউড়ার সড়ক বাজারে যান। এ সময় পুলিশ টহলে এলে ওই নারী তার মেয়েকে নিয়ে জুতার দোকান থেকে বেরিয়ে পড়েন। এরইমধ্যে মেয়েকে না পেয়ে ওই নারী কান্নাকাটি শুরু করেন। পরে পুলিশ সদস্যরা মাইকিং করে বিষয়টি সবাইকে অবগত করেন। প্রায় এক ঘণ্টা পর খবর পাওয়া যায় ওই শিশু তার বাড়িতে চলে এসেছে।

আখাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাহমিনা আক্তার রেইনা জানান, ক্রেতা-বিক্রেতাকে জরিমানা করেও বাজারগুলোতে লোকসমাগম ঠেকানো যাচ্ছে না। এ অবস্থায় স্বাস্থ্যবিধি মানতে প্রয়োজনে আরও কঠোর হতে হবে।

আজিজুল সঞ্চয়/এফএ/জেআইএম