ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের আঘাতে লন্ডভন্ড হয়ে পড়েছে সাতক্ষীরা। উপকূলীয় চার উপজেলার কমপক্ষে ২৬টিরও বেশি পয়েন্টে বেড়িবাঁধ ভেঙে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। পানিতে ভেসে গেছে হাজার হাজার বিঘা মৎস্য ঘের ও ফসলি জমি। বিধ্বস্ত হয়েছে ৮৪ হাজার ঘরবাড়ি। অসংখ্য গাছপালা উপড়ে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে গোটা সাতক্ষীরা। ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে সাতক্ষীরার আমের।
শহরের কামাননগরে গাছ চাপা পড়ে করিমন নেছা নামের এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। সদর উপজেলার ফিংড়ি ইউনিয়নের কুলতিয়া গ্রামের প্রভাষ ঘোষ নামের একজন ঘরের মধ্যে পড়ে মারা গেছেন। সুন্দরবন সংলগ্ন সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার পদ্মপুকুর, গবুরা, বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়ন, আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগর, আনুলিয়া, শ্রীউলা, খাজরা ও আশাশুনি সদও ইউনিয়নের কয়েকটি স্থানে কপোতাক্ষ ও খোলপেটুয়া নদের ভেড়িবাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করেছে।
পদ্মপুকুর ইউনিয়নের চাউলখোলা এলাকার পানি উন্নয়ন বোর্ডের ২০০ ফুটের মতো এলাকা ভেঙে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করেছে। এছাড়া কামালকাটি ও চন্ডিপুর এলাকায় পানি লোকালয়ে ঢুকছে। গাবুরা ইউনিয়নের জেলেখানি ও নাপিতখালী এলাকায় বাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি ঢুকছে।
আশাশুনির প্রতাপনগর ইউনিয়নের সুভদ্রকাটি, কুড়িকাউনিয়া, চাকলা, হিজলা, দিঘলাররাইট, বাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি ঢুকছে বলে নিশ্চিত করেছেন আশাশুনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মীর আলিফ রেজা।
সাতক্ষীরার প্রায় সব এলাকায় গাছপালা ভেঙে রাস্তায় চলাচল বন্ধ আছে। কয়েকটি এলাকায় বিদ্যুতের তারের ওপর গাছ পড়ায় ও খুঁটি উপড়ে পড়ায় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন আছে। বন্ধ রয়েছে ইন্টারনেট পরিষেবা।
শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আ.ন.ম আবুজর গিফারী বলেন, আম্ফানের তাণ্ডবে নদীর পানি ৩ থেকে ৪ ফুট বৃদ্ধি পেয়ে মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের দাঁতনেখালি, দুর্গাবাটি, পদ্মপুকুর ও গাবুরার বেশ কয়েকটি পয়েন্টে বেড়িবাঁধ ভেঙে যায়। কয়েকটি স্থানে পানি ঢুকে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। কাঁচা ও টিনের ঘরের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। গাছপালা উপড়ে রাস্তাঘাট ও বাড়িঘরের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
জেলা প্রশাসনের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কন্ট্রোল রুম থেকে জানানো হয়, ১৪৭টি সাইক্লোন শেল্টার ও এক হাজার ৭০০ স্কুল-কলেজসহ আশ্রয়কেন্দ্রে তিন লাখ ৭০ হাজার মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। জেলায় ১২ হাজার স্বেচ্ছাসেবকের পাশাপাশি ১০৩ জনের মেডিকেল টিম স্বাস্থ্যসেবায় নিয়োজিত রয়েছেন।
মরিচ্চাপসহ বিভিন্ন নদ-নদীর পানি ২ থেকে ৩ ফুট বৃদ্ধি পেয়েছে। শ্যামনগর উপজেলার পদ্মপুকুর ও গাবুরা, মুন্সিগঞ্জ ও আশাশুনি উপজেলার দয়ারঘাট, হাজরাকাটি, কুড়িকাউনিয়া, মনিপুরি ও বিছট এলাকার বেড়িবাঁধে ফাটল দেখা দিয়েছে।
বাঁধ সংস্কারের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডকে নির্দেশ দিয়েছেন সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক এস.এম মোস্তফা কামাল। সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, তারা চেষ্টা করছে। দ্রুত সংস্কারকাজ শুরু করবে তারা।
আকরামুল ইসলাম/এএম/পিআর