দেশজুড়ে

কিশোরগঞ্জের ঈদ বাজারে শাড়ি-লুঙ্গি ফ্রি

বাড়ির আঙিনায় নির্ধারিত দূরত্ব রেখে টেবিলে সাজানো শাড়ি-লুঙ্গি, পোলাওয়ের চাল, দুধ, চাল, ডাল, চিনি, লবণ, সাবান-শ্যাম্পুসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস। আছে মাস্ক ও স্যানিটাইজার।

প্রতিটি টেবিলের পেছনে একজন করে বিক্রেতা দাঁড়ানো। কোনো ঝামেলা নেই। চার থেকে পাঁচজন ক্রেতা প্রবেশ করছেন বাজারে। সেখান থেকে যে যার মতো পছন্দের পণ্য নিয়ে যাচ্ছেন। এজন্য দিতে হয় না কোনো টাকা।

শনিবার (২৩ মে) বিকেলে কিশোরগঞ্জ শহরের নগুয়া এলাকায় নিজের বাড়ির আঙিনায় ব্যতিক্রমী এ বাজারের আয়োজন করা হয়। কিশোরগঞ্জ সম্মিলিত নাগরিক ফোরামের প্রধান সমন্বয়কারী ও জেলা আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক এনায়েত করিম এ বাজারের আয়োজন করেন।

কিশোরগঞ্জের এই ঈদ বাজার থেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে বিনামূল্যে ঈদের প্রয়োজনীয় সামগ্রী কিনে নিলেন দরিদ্র মানুষ। এই বাজার থেকে বিনামূল্যে শাড়ি-লুঙ্গিসহ অন্যান্য ঈদসামগ্রী পেয়ে খুশি ক্রেতারা। চলমান করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্য সচেতনতা বাড়াতে এমন আয়োজন করা হয়েছে।

স্বাস্থ্য সচেতনতা বজায় রেখে এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে এনায়েত করিম বাড়ির সামনে এ ঈদ বাজার বসান। জীবাণুনাশক স্প্রে, হাতধোয়া ও মাস্ক পরার পর বাজারে প্রবেশ করতে দেয়া হয় ক্রেতাদের।

বাজারে প্রবেশের প্রথম টেবিলে রাখা হয় বাজার ব্যাগ। ব্যাগ হাতে নিয়ে ক্রেতারা প্রতিটি টেবিল থেকে একটি করে পণ্য নিজের হাতে ব্যাগে ভরে ফিরে যাচ্ছেন বাড়িতে। ভিড় ও ঝামেলা এড়িয়ে প্রয়োজনীয় পণ্য কিনলেও মূল্য দিতে হচ্ছে না তাদের। এমন আয়োজনে খুশি ক্রেতারা।

শহরের নগুয়া এলাকার বাসিন্দা রহিমা বলেন, বাজারে এসে ধারণাই বদলে গেছে। বিনামূল্যে যে পরিমাণ জিনিস পেলাম তা দিয়ে ঈদের পরও কয়েকদিন চলবে।

এনায়েত করিম বলেন, চলামান করোনা সঙ্কট সহজেই কাটছে না। স্থায়ী হতে পারে এই মহামারি। তাই সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে সচেতনভাবে চালাতে হবে জীবন। দরিদ্রদের সহযোগিতার পাশাপাশি সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলায় উৎসাহিত করতে এমন আয়োজন করা হয়েছে। বাজার থেকে ২০০ পরিবারকে বিনামূল্যে ঈদের সামগ্রী দেয়া হয়েছে।

নূর মোহাম্মদ/এএম/জেআইএম