টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে পেকুয়া-অভিরামপুর সড়কের বংশীনগর এলাকার ইনথখাচালা নামক স্থানে ব্রিজ ভেঙে বালুভর্তি মাহিন্দ্র খাদে পড়ে গেছে। এতে মির্জাপুর, সখিপুর ও কালিয়াকৈর উপজেলার প্রায় ২০ গ্রামের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। ফলে প্রায় দুই কিলোমিটার ঘুরে কাঁদাযুক্ত রাস্তা পার হয়ে চলাচল করছেন এসব গ্রামবাসী। রোববার সন্ধ্যার পর বালুভর্তি একটি মাহিন্দ্র ব্রিজটি পার হওয়ার সময় ভেঙে নিচে পড়ে যায়। এ ঘটনায় কেউ হতাহত না হলেও ওই সড়ক দিয়ে যানবাহন ও জনসাধারণের চলাচল বন্ধ রয়েছে।
জানা গেছে, পেকুয়া-অভিরামপুর সড়কের বংশীনগর এলাকার ইনথখাচালায় ৪০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ১০ ফুট প্রস্থের ব্রিজটি প্রায় তিন যুগ আগে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর নির্মাণ করে। ব্রিজটি দিয়ে উপজেলার বাঁশতৈল ইউনিয়নের অভিরামপুর, কটামারা, ইনথখাচালা, বংশীনগর, দিঘীবাড়ি, মুথারচালা ও বালিয়াজানসহ সখিপুর উপজেলার রাজাবাড়ি, দেওয়ানপাড়া, বাজাইল ও কালিয়াকৈর উপজেলার ফুলবাড়িয়া, মুনচালা ও পাগুড়াচাল গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ চলাচল করে থাকে। এছাড়া শতাধিক সিএনজি চালিত অটোরিকশা ও ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল চলাচল করে থাকে পথ দিয়ে।
ব্রিজটি ভেঙে যাওয়ায় ওই এলাকার মৌসুমী ফল আম, কাঁঠাল, কলা, বেগুনসহ সবজি বিক্রিতে বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। ওই এলাকার কৃষকদের উৎপাদিত কৃষিপণ্য বেপারিরা ট্রাকযোগে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে নিয়ে থাকেন। রোববার রাতে ব্রিজটি ভেঙে পড়ায় কৃষিপণ্য কিনতে আসা বেপারিরা।
গত কয়েক বছর যাবত ব্রিজটির পশ্চিম-দক্ষিণ পাশ জরাজীর্ণ হয়ে ভেঙে পড়লেও স্থানীয় প্রকৌশল অধিদফতর তা মেরামতের উদ্যোগ না নেয়ায় ব্রিজটি ভেঙে পড়েছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেন। অভিরামপুর গ্রামের কৃষক বারেক শিকদার, আব্দুর রউফ, জাকির হোসেন ও খায়রুল ইসলাম জানান, বাঁশতৈল ইউনিয়নের ৯টি গ্রামের লোকজনের চলাচলে একমাত্র পাকা রাস্তা এটি। ব্রিজটি ভেঙে পড়ায় আমাদের এলাকার অনেকেই এই সমস্যায় পড়েছেন। কলা ও কাঁঠাল নিয়ে সবচেয়ে বেশি বিপাকে আছেন বলে তারা জানান।
বাঁশতৈল ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. জহিরুল ইসলাম জানান, সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন মির্জাপুর উপজেলার ৯টি গ্রামসহ সখিপুর ও কালিয়াকৈর উপজেলার প্রায় ২০টি গ্রামের প্রায় ৪০ হাজার লোকজন চলাচল করে থাকে। ওইসব গ্রামে উৎপাদিত সবজি ঢাকা-টাঙ্গাইল ও মির্জাপুর সদরসহ বিভিন্ন হাটে বাজারজাত হয়ে থাকে। ব্রিজটি ভেঙে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় তা পচে নষ্ট হবে। এছাড়া গত কয়েকদিন যাবত বৃষ্টি হচ্ছে। কাঁচা রাস্তায় পায়ে হেঁটে চলাচল করাও কষ্ট। প্রায় দুই কিলোমিটার ঘুরে লোকজন প্রয়োজনীয় কাজে চলাচল করছে বলে তিনি জানান।
বাঁশতৈল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আতিকুর রহমান মিল্টন ব্রিজ ভেঙে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, জনসাধারণের চলাচলের জন্য পরিষদের পক্ষ থেকে একটি বাঁশের সাকো নির্মাণের প্রক্রিয়া শুরু করেছেন।
মির্জাপুর উপজেলা প্রকৌশলী আরিফুর রহমান জানান, গত কয়েক বছর ধরে ব্রিজটি জরাজীর্ণ থাকায় পুনর্নির্মাণের আবেদন করা হয়েছে।
এরশাদ/এফএ/পিআর