দেশজুড়ে

ঠাকুরগাঁওয়ে মির্জা ফখরুলের ভাইয়ের কুশপুত্তলিকা দাহ

করোনাকালে চরম সংকটগ্রস্ত ইজিবাইক শ্রমিকদের উপর পৌরটোল ও সমাজ কল্যাণের নামে চাঁদাবাজি বন্ধ না করায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ভাই পৌর মেয়র মির্জা ফয়সাল আমিনের কুশপুত্তলিকা দাহ করেছেন ঠাকুরগাঁওয়ের ইজিবাইক শ্রমিকরা।

মঙ্গলবার দুপুরে ঠাকুরগাঁও ইজিবাইক শ্রমিক ইউনিয়নের ব্যানারে শহরের চৌরাস্তায় এ বিক্ষোভ সমাবেশ ও পৌর মেয়রের কুশপুত্তলিকা দাহ করা হয়।

বক্তারা বলেন, করোনা পরিস্থিতিতে দুই মাস লকডাউনের কারণে অধিকাংশ শ্রমিক ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন। এখন যানবাহন চলাচল শুরু হলেও মানুষের যাতায়াত সীমিত হওয়ায় শ্রমিকদের আয় আগের তুলনায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। এরপরও পৌরটোল ও শ্রমিক কল্যাণের নামে রাস্তায় চাঁদাবাজি অব্যাহত থাকায় দিনের পর দিন জমার টাকা পরিশোধ করে সংসারের খরচ চালানো শ্রমিকদের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।

এই অবস্থায় ঠাকুরগাঁও পৌরসভা আবার নতুন করে এই অর্থবছরে ইজিবাইকে টোল আদায়ের জন্য দরপত্র আহ্বান করেছে। অথচ ইজিবাইক শ্রমিকরা গত এক বছর ধরে পৌরটোলের নামে একশ্রণির চিহ্নিত চাঁদাবাজদের চাঁদাবাজি বন্ধের দাবি জানিয়ে আসছে।

পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, দরপত্রের মাধ্যমে প্রতিবছর পৌর এলাকায় চলাচল করা যানবাহন থেকে পৌরটোল আদায়ের জন্য ইজারাদার নিয়োগ করে পৌরসভা।

শ্রমিকদের অভিযোগ, নামমাত্র দরে ইজারা দেয়ার পর বছরব্যাপী চলে অসহনীয় চাঁদাবাজি। এমন পরিস্থিতিতে তারা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীসহ যথাযথ কর্তৃপক্ষকে এই চাঁদাবাজি বন্ধে দ্রুত কার্যকরী পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানান।

এ বিষয়ে পৌর মেয়র মির্জা ফয়সাল আমিন বলেন, দরপত্রের মাধ্যমে প্রতিবছর ইজারাদার নিয়োগ দিয়ে পৌরটোল আদায় করে পৌরসভা। সেটা একেবারেই বন্ধ করার সুযোগ নেই। তবে করোনা পরিস্থিতিতে ইজিবাইক চালকদের কাছ থেকে পৌরটোল আদায় বন্ধ রাখার আবেদন পেলে বিষয়টি বিবেচনায় আনা হবে।

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান বলেন, সড়কে চাঁদাবাজির কোনো সুযোগ নেই। অভিযোগ পেলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এফএ/পিআর