খেলাধুলা

‘কীভাবে চার দশক ভারতে ব্যবসা করলো ফেয়ার অ্যান্ড লাভলি?’

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে জর্জ ফ্লয়েডকে হত্যার পর থেকেই বর্ণবাদের বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠেছে সারা বিশ্ব। যার ধারাবাহিকতায় কিছুদিন আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সাবেক অধিনায়ক ড্যারেন স্যামি অভিযোগ তুলেছিলেন, আইপিএল খেলতে এসে তিনি বর্ণবাদের শিকার হয়েছেন। প্রথমে বুঝতে না পারলেও পরে বুঝতে পারেন। এবার বর্ণবিদ্বেষ নিয়ে আবারও ভারতের দিকে অভিযোগের আঙ্গুল তুললেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের সাবেক এই অধিনায়ক।

ইশান্ত শর্মার পর এবার ড্যারেন স্যামির তীর ইউনিলিভারের মুখ ফর্সাকারী ক্রিম ফেয়ার অ্যান্ড লাভলির দিকে। সানরাইজার্স হায়দরাবাদের হয়ে খেলা স্যামি আউটলুকের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে বলছেন, ‘চার দশক ধরে ভারতে কিভাবে ফেয়ার অ্যান্ড লাভলি নাম দিয়ে একটা কোম্পানি ব্যবসা চালিয়ে গেল, তা আমি ঠিক বুঝে উঠতে পারছি না।’

সঙ্গে তিনি জুড়ে দেন, ‘ওদের বিজ্ঞাপনে বোঝানো হত যা কিছু সুন্দর তা সবই ফর্সা বা আলো। অর্থাৎ চরম বর্ণবিদ্বেষের বীজ লুকিয়ে ছিল এই বিজ্ঞাপনে। অথচ এ নিয়ে কেউ কোনো আপত্তি তোলেনি। সুন্দর মানেই ফর্সা হতে হবে, এমন কি কোনও মানে আছে?’

আমেরিকায় পুলিশের হাতে কৃষ্ণাঙ্গ জর্জ ফ্লয়েডের মৃত্যুর পর সারা বিশ্বজুড়ে ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার আন্দোলনের ঝড়। ইংল্যান্ডে গিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেটাররা এই আন্দোলনের লোগো লাগানো জার্সি পরেই খেলবেন।

আন্দোলন শুরু হতেই স্যামি তোপ দেগেছিলেন ভারতীয় পেসার ইশান্ত শর্মার দিকে। হায়দরাবাদ দলে স্যামিকে তার সতীর্থ ইশান্ত শর্মা ডাকতেন কালু নামে। স্যামি বলেছেন, ‘আমি জানতাম আমার গায়ের রং কালো বলেই আমাকে এই নামে ডাকা হচ্ছে। এই মানসিকতার পরিবর্তন দররকার।’

ইউনিলিভারের বিউটি অ্যান্ড পার্সোনাল কেয়ার ডিভিশনের সভাপতি সানি জিয়ান বলেছেন, তারা ‘ফেয়ার’ শব্দটি বাদ দেবেন। যাতে বর্ণবাদের কোনো গন্ধ মিশে না থাকে। উল্লেখ্য, ফেয়ার অ্যান্ড লাভলির নাম পরিবর্তন করে ‘গ্লো অ্যান্ড লাভলি’ করা হয়েছে

আইএইচএস/