পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিকে না জানিয়ে এবং মেইন লাইন বন্ধ না করে কাজ করতে গিয়ে গাইবান্ধার সাঘাটায় ১৫ মিনিট ১১ হাজার ভোল্টের তারে আটকে ছিল আল-আমিন নামের এক যুবক। পরে কন্ট্রোল রুমে ফোন দিয়ে বিদ্যুতের সংযোগ বন্ধ করে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিস।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বিকেল ৫টার দিকে সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়া ১ নম্বর রেলগেট (সবুজ বাংলার মোড়) সিএনজি স্ট্যান্ডে এ ঘটনা ঘটে ।
আহত যুবক আল-আমিন গাইবান্ধা সদর উপজেলার তুলশীঘাট (ভবানিগঞ্জ) গ্রামের আবু বক্করের ছেলে।
স্থানীয়রা জানান, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিকে না জানিয়ে রফিকুল ইসলাম নামের এক ব্যবসায়ীর কাঠ ফারাইয়ের স’ মিলে বৈদ্যুতিক সংযোগ স্থাপনের কাজ করা হচ্ছিল। পল্লী বিদ্যুতের ঠিকাদার রওশন আলীর ব্যক্তিগতভাবে নিযুক্ত লাইনম্যান আল-আমিন বৈদ্যুতিক খুঁটির ওপরে উঠে নতুনভাবে ট্রান্সফরমার স্থাপন করেন। স্থাপন শেষে ১১ হাজার ভোল্টের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের কাজ করতে মেইন লাইনে হাত দিলে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে লাইনে ঝুলতে থাকেন। তবে কোমরে বেল্ট থাকার কারণে তিনি পরে যাননি। পরে স্থানীয়রা পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে ফোন করলে তারা বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করে দেন। ১৫ মিনিট ঝুলে থাকার তাকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় সবুজ বাংলা হাসপাতালে অক্সিজেন ও স্যালাইন দিয়ে পরে গাইবান্ধা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এ বিষয়ে ঠিকাদার রওশন আলীর সঙ্গে মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি ।
গাইবান্ধা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির বোনারপাড়া জোনাল অফিসের সহকারী জেনারেল ম্যানেজার (এজিএম) আব্দুল হালিম জানান, কোনো ঠিকাদার নতুন সংযোগের কাজ করতে চাইলে পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের নির্দিষ্ট ফরমে আবেদন করবেন। আমরা আবেদন নোটিশ আকারে ফাইল করে মেইন লাইন শাটডাউন বা বন্ধ করে দিলে ঠিকাদার কাজ শুরু করবেন। কিন্ত এই বিষয়ে ওই ঠিকাদার কোনো আবেদন দেননি। এমনকি মেইন লাইন বন্ধের জন্য কোনো ফোন দেননি। ফলে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। ঠিকাদারের অবহেলায় এমনটি ঘটেছে ।
সাঘাটা ফায়ার সার্ভিসের ইনচার্জ আব্দুল হামিদ জানান, গুরুতর আহত অবস্থায় লাইনম্যান আল-আমিনকে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে গাইবান্ধা সদর হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
জাহিদ খন্দকার/এসআর