দেশজুড়ে

গাইবান্ধায় এখনও দেড় লাখ মানুষ পানিবন্দি

ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে গাইবান্ধায় যমুনা, ব্রহ্মপুত্র, ঘাঘট, তিস্তাসহ সবকটি নদীর পানি অপরিবর্তিত থাকলেও করতোয়া নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত আছে। ব্রহ্মপুত্র নদের পানি ২৪ ঘণ্টায় ৪ সেন্টিমিটার কমে ফুলছড়ি পয়েন্টে বিপৎসীমার ১১৪ সেন্টিমিটার ও ঘাঘট নদীর পানি ৪ সেন্টিমিটার কমে গাইবান্ধা শহরের নতুন ব্রিজ পয়েন্টে বিপৎসীমার ৮৯ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া করতোয়া নদীর পানি গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার কাটাখালি পয়েন্টে বিপৎসীমার ১৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

জানা যায়, দ্বিতীয় দফা বন্যায় জেলার সদর, সুন্দরগঞ্জ, সাঘাটা ও ফুলছড়ি উপজেলার ২৬টি ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলের ৬০টি গ্রামের এক লাখ ৪৬ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। এর মধ্যে এক লাখ ২২ হাজার ৩২০ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। বিপৎসীমা অতিক্রম করার ফলে করতোয়া নদীবেষ্টিত গোবিন্দগঞ্জ পলাশবাড়ীর নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হচ্ছে। হুমকির মুখে পড়েছে এ জেলার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধগুলো।

গাইবান্ধা-সাঘাটা আঞ্চলিক সড়কের উল্যা ভরতখালী এলাকার বিভিন্ন স্থানে বাঁধের উপর দিয়ে এখানও পানি যাচ্ছে। এই সড়কের ১০টি পয়েন্ট ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। বালুর বস্তা দিয়ে বন্যার পানি ঠেকানোর চেষ্টা করছে স্থানীয়রা।

ফুলছড়ি উপজেলার বাংকের চরের আব্দুল কাদের জানান, বাড়িঘরে পানি ওঠায় পানির মধ্যে চলাচল করতে গিয়ে হাত-পায়ে ঘা দেখা দিয়েছে। সরকারি কোনো সহায়তা বা বিশুদ্ধ পানি মিলছে না।

সাঘাটার গোবিন্দপুর গ্রামের ওয়াফদা বাঁধে আশ্রয় নেয়া ফুলবানু জানান, ঘর-বাড়ি ছেড়ে আমরা বাঁধ, উঁচু স্থান ও বিভিন্ন স্কুলে আশ্রয় নিয়েছি। এখনও কেউ আসেনি খোঁজ নিতে।

সাঘাটার কচুয়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য হাবিবুর রহমান জানান, পানি বৃদ্ধির ফলে বাঙালি নদীবেষ্টিত কচুয়া ইউনিয়নের কয়েকটি নদীতে ভাঙন দেখা দিয়েছে।

সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বেলকা ইউনিয়নের মোহন্ত বাবু জানান, চরাঞ্চল ও নদী তীরবর্তী এলাকার বন্যায় কর্মহীন হওয়া মানুষগুলোর মধ্যে দেখা দিয়েছে খাদ্য সংকট। জনপ্রতিনিধিরা এখনও খোঁজ নিতে আসেনি।

গাইবান্ধা জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা একেএম ইদ্রিস আলী জানান, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য এ পর্যন্ত ৩২০ মেট্রিক টন চাল ও নগদ ১৫ লাখ টাকা, শিশুখাদ্য চার লাখ, গোখাদ্য দুই লাখ ও ১৮ হাজার প্যাকেট শুকনা খাবার বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে এগুলো বিতরণ করা হচ্ছে।

সার্বিক বিষয়ে গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক আব্দুল মতিন বলেন, বন্যা কবলিত মানুষের জন্য সরকারিভাবে সহায়তা অব্যাহত আছে। এছাড়াও বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ রক্ষায় জেলা প্রশাসন সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের রংপুর বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী জ্যোতি প্রসাদ ঘোষ বলেন, বন্যার পানি বাড়ার সময় থেকে ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে বাঁধ রক্ষায় পানি উন্নয়ন বোর্ড কাজ করে যাচ্ছে। গাইবান্ধার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধগুলো আরও মজবুত করতে বিভিন্ন প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। আগামীতে কাজ শুরু করা হবে।

জাহিদ খন্দকার/এফএ/এমএস