পল্লীবিদ্যুৎ সমিতিকে না জানিয়ে এবং মেইন লাইন বন্ধ না করে কাজ করতে গিয়ে গাইবান্ধার সাঘাটায় ১৫ মিনিট ১১ হাজার ভোল্টের তারে আটকে থাকা আল-আমিন নামে সেই যুবক মারা গেছেন। রোববার (১৯ জুলাই) ভোর ৪টার দিকে ঢাকার একটি হাসপাতালে মারা যান তিনি।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বিকেল ৫টার দিকে সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়া ১ নম্বর রেলগেট (সবুজ বাংলার মোড়) সিএনজি স্ট্যান্ডে ১৫ মিনিট ১১ হাজার ভোল্টের তারে আটকে থাকেন তিনি। পরে কন্ট্রোল রুমে ফোন দিয়ে বিদ্যুতের সংযোগ বন্ধ করে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিস।
রোববার (১৯ জুলাই) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গাইবান্ধা সদরের সাহাপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত) গোলাপ হোসেন।
তিনি জানান, সাঘাটা থানা বরাবর ঠিকাদার ও নিহতের পরিবারের একটি আপষনামা পাঠিয়েছি। নিহতের পরিবারের কোনো দাবি নেই।
মৃত আল-আমিন গাইবান্ধা সদর উপজেলার তুলশীঘাট (ভবানিগঞ্জ) গ্রামের আবু বক্করের ছেলে।
স্থানীয়রা জানান, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিকে না জানিয়ে রফিকুল ইসলাম নামের এক ব্যবসায়ীর কাঠ ফাড়াইয়ের স’মিলে বৈদ্যুতিক সংযোগ স্থাপনের কাজ করা হচ্ছিল। পল্লী বিদ্যুতের ঠিকাদার রওশন আলীর ব্যক্তিগতভাবে নিযুক্ত লাইনম্যান আল-আমিন বৈদ্যুতিক খুঁটির ওপরে উঠে নতুনভাবে ট্রান্সফরমার স্থাপন করেন। স্থাপন শেষে ১১ হাজার ভোল্টের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের কাজ করতে মেইন লাইনে হাত দিলে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে লাইনে ঝুলতে থাকেন তিনি। তবে কোমরে বেল্ট থাকার কারণে তিনি পড়ে যাননি। পরে স্থানীয়রা পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে ফোন করলে তারা বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করে দেন।
১৫ মিনিট ঝুলে থাকার পর তাকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় সবুজ বাংলা হাসপাতালে অক্সিজেন ও স্যালাইন দিয়ে পরে গাইবান্ধা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার আরও অবনতি হলে শনিবার রাতে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেয়ার পথে মারা যান তিনি।
ওই ঠিকাদার রওশন আলীর সঙ্গে মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
গাইবান্ধা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির বোনারপাড়া জোনাল অফিসের সহকারী জেনারেল ম্যানেজার (এজিএম) আব্দুল হালিম জানান, কোনো ঠিকাদার নতুন সংযোগের কাজ করতে চাইলে পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের নির্দিষ্ট ফরমে আবেদন করবেন। আমরা আবেদন নোটিশ আকারে ফাইল করে মেইন লাইন শাটডাউন বা বন্ধ করে দিলে ঠিকাদার কাজ শুরু করবেন। কিন্তু এই বিষয়ে ওই ঠিকাদার কোনো আবেদন দেননি। এমনকি মেইন লাইন বন্ধের জন্য কোনো ফোন দেননি। ফলে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। ঠিকাদারের অবহেলায় এমনটি ঘটেছে।
এদিকে এ ঘটনায় মামলা হবে কি না সে বিষয়ে থানা পুলিশ কিছুই জানে না। ঘটনাটি রেলওয়ে এলাকায় ঘটায় গাইবান্ধার বোনারপাড়া রেলওয়ে থানার (জিআরপি) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মান্নান ফরায়েজী জানান, আমরা বিষয়টি খোঁজ নেয়ার অনেক চেষ্টা করেছি কিন্তু ঠিকাদার আমাদের কোনো তথ্য জানাননি। পরে রোববার দুপুরে গাইবান্ধা সদরের সাহাপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের সঙ্গে যোগাযোগ হলে তিনি জানান আল-আমিন মারা গেছেন।
জাহিদ খন্দকার/এফএ/এমএস