স্ত্রী-সন্তানদের পিটুনিতে মারা গেলেন বৃদ্ধ জিল্লুর রহমান জিন্নাহ (৬২) নামের এক ব্যক্তি। জমি লিখে না দেয়ায় ও জুয়া খেলা না ছাড়ায় তার ওপর ভয়াবহ পারিবারিক নির্যাতন চালানো হয়।পরে জমি লিখে দেয়ার পর চলে জুয়া খেলা বন্ধ করার জন্য নির্যাতন। ২য় দফার নির্যাতনে গুরুতর আহত জিল্লুর রহমান চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার রাতে মারা যান।ঘটনাটি ঘটেছে পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার পার-ভাঙ্গুড়া ইউনিয়নের রাঙালিয়া গ্রামে।
তিনি ওই গ্রামের মৃত তজির উদ্দিন মোল্লার ছেলে ও রাঙ্গালিয়া বাজারের জিন্নাহ মাকের্টের মালিক। জিল্লুর রহমান জিন্নাহ অব. নৌ সেনা সদস্য ছিলেন।
স্থানীয়রা জানান, জিল্লুর রহমান জিন্নাহ দীর্ঘদিন ধরে জুয়া খেলে আসছিলেন। এ কারণে তার পরিবারের স্ত্রী, ছেলে ও মেয়ের সাথে তার সম্পর্কের অবনতি ঘটে।নিজেদের ভবিষ্যতের কথা ভেবে স্ত্রী আনোয়ারা বেগম (৫০), মেয়ে জেসমিন খাতুন (২৫) ও ছেলে আরিফুল ইসলাম (২০) তাদের নামে সম্পত্তি লিখে দেয়ার জন্য প্রায়ই চাপ দিতেন। তারা সবাই মিলে বৃদ্ধ জিল্লুর রহমানকে মারধরও করতেন।
গত বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বৃদ্ধ জিল্লুর রহমান জিন্নাহকে তারা ঘরে আটকে রাখেন এবং খাবার বন্ধ করে দেন। এরপর ছাড়া পেয়ে তার ওপর চালানো এ অমানবিক নির্যাতনের বিচার চান তিনি। গত রোববার (১৯ জুলাই) তার স্ত্রী, মেয়ে ও ছেলের এর বিরুদ্ধে ভাঙ্গুড়া থানায় মৌখিক অভিযোগ করেন তিনি। এতে তারা আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। পরে তাকে রড দিয়ে পিটিয়ে জমি-জমা স্ট্যাম্পে লিখে তার স্বাক্ষর নেন। তবে গুরুতর আহত বৃদ্ধের চিকিৎসা তারা করেননি।
ওই বৃদ্ধের চিৎকারে প্রতিবেশীরা তাকে উদ্ধার করে রোববার ভাঙ্গুড়া উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে ভর্তি করে দেন। সেখানে তার অবস্থার অবনতি ঘটায় চিকিৎসকরা তাকে রোববারই পাবনা জেনারেল হাসপাতালে রেফার্ড করেন। সেখানেও তার অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় সোমবার রাতে তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে নেয়ার পথে তিনি মারা যান।
মঙ্গলবার দুপুরে ওই বৃদ্ধের মৃতদেহ বাড়িতে আনা হয়। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর পুলিশকে স্থানীয়রা খবর দেন।
ভাঙ্গুড়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন বলেন, ওই অব. নৌ সেনার পারিবারিক দ্বন্দ্বের কথা তারা জানেন। তার মৃত্যুর কারণ ও ঘটনার সাথে কারা জড়িত তা জানার জন্য ওই বাড়িতে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত (সন্ধ্যা ৬টা) পুলিশ ওই বাড়িতে অবস্থান করছিল বলে ওসি জানান।
তিনি জানান, বৃদ্ধের মৃত্যু যদি পারিবারিক নির্যাতনে হয়ে থাকে তবে দোষীদের বিরুদ্ধে অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এমএএস/এমএস