রাজবাড়ীতে পদ্মা নদীর পানি কমতে শুরু করলেও সবগুলো পয়েন্টে এখনও পদ্মার পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে অপরিবর্তিত রয়েছে জেলার বন্যা পরিস্থিতি।
গত ২৪ ঘণ্টায় দৌলতদিয়া পয়েন্টে পদ্মার পানি চার সেন্টিমিটার কমে বিপৎসীমার ১১৫ সেন্টিমিটার, সদরের মহেন্দ্রপুর ছয় সেন্টিমিটার কমে ৪৪ সেন্টিমিটার ও পাংশার সেনগ্রাম পয়েন্টে এক সেন্টিমিটার কমে বিপৎসীমার ৯৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে জেলা সদর, পাংশা, কালুখালী ও গোয়ালন্দের প্রায় ৬০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। দুর্গত এলাকায় দেখা দিয়ে বিশুদ্ধ খাবার পানি ও গো-খাদ্যের সঙ্কট। বানভাসিরা আশ্রয় নিয়েছেন উঁচু রাস্তা, বাঁধ ও আশ্রয়কেন্দ্রে।
এছাড়া বন্যার পানিতে ডুবেছে রেললাইনসহ নিচু এলাকার রাস্তাঘাট, ঘর-বাড়ি ও বিস্তীর্ণ এলাকার ফসলি মাঠ। ফলে গোয়ালন্দ অঞ্চল ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় ২১ জুলাই থেকে বন্ধ রয়েছে রাজশাহী থেকে ছেড়ে আসা গোয়ালন্দ ঘাটগামী আন্তঃনগর মধুমতি ট্রেন। তবে ট্রেনটি বর্তমানে রাজবাড়ী রেলওয়ে স্টেশন পর্যন্ত চলাচল করছে। পরিস্থিতি ভালো হলে পুনরায় ট্রেনটি রাজশাহী থেকে গোয়ালন্দ ঘাট পর্যন্ত যাওয়া-আসা করবে।
রাজবাড়ী রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার তন্ময় কুমার বলেন, কর্তৃপক্ষের নির্দেশে রাজশাহী থেকে আসা আন্তঃনগর মধুমতি ট্রেন এখন রাজবাড়ী স্টেশন পর্যন্ত চলাচল করছে। বন্যার পানির কারণে গোয়ালন্দ ঘাটে যাচ্ছে না। পরিস্থিতি ভালো হলে কর্তৃপক্ষের নির্দেশে আবার রাজশাহী থেকে গোয়ালন্দে আসা-যাওয়া করবে ট্রেনটি।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আব্দুল করিম বলেন, বালিয়াকান্দি ও কালুখালী ব্যতীত জেলা সদর, পাংশা ও গোয়ালন্দ এই তিন উপজেলায় বন্যার পানির কারণে প্রায় ১০ হাজার পরিবার পানিবন্দি রয়েছে। যাদের চাল, নগদ টাকা, শুকনা খাবার, শিশু ও গো-খাদ্য দেয়া হচ্ছে। বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
রুবেলুর রহমান/এএম/পিআর