কুড়িগ্রামে আবারও বন্যা দেখা দিয়েছে। ভারি বর্ষণ ও উজানের ঢলে জেলার নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ধরলা নদীতে ১০ সেন্টিমিটার ও ব্রহ্মপুত্র নদে ৪ সেন্টিমিটার পানি বেড়েছে। ধরলার পানি বিপৎসীমার মাত্র ২ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে অর্ধশত চরের নিচু এলাকা আবারও প্লাবিত হয়েছে। পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে রোপা আমনসহ কিছু বাড়িঘর।
এদিকে ধরলার ভাঙনে সদর উপজেলার সারডোব এলাকায় বিকল্প বাঁধের ৪ মিটার অংশ বিলীন হয়ে গেছে। প্রবল ভাঙন ও পানির তোড়ে টিকতে না পেরে ঘরবাড়ি সরিয়ে নিচ্ছেন স্থানীয়রা। গৃহহীন মানুষ চলে যাচ্ছেন বাঁধ ও উঁচু রাস্তায়। গত চারদিনে জেলার বিভিন্ন এলাকায় নদী ভাঙনের শিকার হয়ে আরও শতাধিক পরিবার গৃহহীন হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সকালে সদর উপজেলার হলোখানা ইউনিয়নের সারডোব গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, তীব্র নদী ভাঙনের কারণে লোকজন ঘরবাড়ি সরিয়ে নিচ্ছেন। ভাঙনকবলিতদের চোখেমুখে হতাশার ছাপ। দীর্ঘদিনের বসতভিটা গিলে খাচ্ছে রাক্ষুসে ধরলা নদী। জমিজমাও খেয়ে ফেলেছে। এখন কোথায় যাবে তারা।
দুটি নৌকায় গৃহস্থালি মালামাল তুলছেন নুর হোসেন ও তার পরিবার। গতকাল ঘরবাড়ি সরিয়েছিলেন। আজ বাকি জিনিসপত্র নিয়ে যাচ্ছেন। কোথায় ঠাঁই নিয়েছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘রাস্তাত যায়া উঠছি। সে জায়গাতেও মানুষ বাধা দেয়।’
একই অবস্থা নুরুন্নবী, আলম মিয়া, এমদাদুল, নজীর হোসেন, নজরুল, ছলিম উদ্দীন ও বিধবা কছিমন বেওয়ার। তারা সবাই এখন গৃহহীন। নিজেদের এবং সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে তারা চিন্তিত।
এরই মধ্যে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধটির ৪০০ মিটার অংশ বিলীন হয়ে গেছে। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর ডিঙি নৌকায় ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছে গ্রামবাসী। এখন প্রচণ্ড ঘূর্ণি স্রোতে ভাঙছে পুরো গ্রাম। অনেকেই ঘরবাড়ি সরানোর মতো অর্থ জোগাতে পারছেন না। আবার মাথা গোঁজার মতো ঠাঁই না থাকায় প্রায় সবাই বাঁধের রাস্তার ওপর মালামাল স্তূপ করে রেখে একটি ছাপড়া ঘর তুলে আছেন।
কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আরিফুল ইসলাম বলেন, সারডোবের ভাঙন প্রতিরোধে আপাতত বালুর বস্তা ফেলা হচ্ছে। পানি নেমে গেলে ৮০০ মিটার অংশ স্থায়ী তীর প্রতিরক্ষার কাজ করা হবে। তখন আর ভাঙনের সমস্যা থাকবে না।
নাজমুল হোসাইন/আরএআর/জেআইএম