কুমিল্লায় অস্ত্রোপচার ছাড়াই একসঙ্গে জন্ম নেয়া এক গৃহবধূর পাঁচ সন্তানের মধ্যে তিনজন মারা গেছে। বর্তমানে এক ছেলে ও এক মেয়ে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রয়েছে। তাদের বাবা নুরানী মাদরাসার স্বল্প বেতনের শিক্ষক মিজানুর রহমান সন্তানদের বাঁচাতে সকলের সহায়তা কামনা করেছেন।
এর আগে গত বুধবার (১২ আগস্ট) দুপুরে জেলার লাকসাম জেনারেল হাসপাতালে অস্ত্রোপচার ছাড়াই পাঁচ সন্তানের জন্ম দিয়েছিলেন গৃহবধূ শারমিন আক্তার। এর মধ্যে তিন ছেলে ও দুই মেয়ে ছিল। জন্মের পর শিশুদের ওজন কম হওয়ায় তাদের কুমিল্লা মডার্ন হাসপাতালে আনার পথে অক্সিজেনের অভাবে এক ছেলে ও এক মেয়ে মারা যায়। অপর তিনজনকে কুমিল্লা মডার্ন হাসপাতালের ইনকিউবেটরে রাখা হয়। অবস্থার অবনতি হলে গত শুক্রবার (১৪ আগস্ট) দুপুরে তাদের ঢাকা শিশু হাসপাতালে নেয়া হয়।
কিন্তু সেখানে শয্যা না পেয়ে পরে ধানমন্ডির উইমেন্স অ্যান্ড চিলড্রেন জেনারেল হাসপাতালে তাদের ভর্তি করা হয়। সেখানে রোববার (১৬ আগস্ট) রাতে মারা যায় এক ছেলে। বর্তমানে অপর দুই শিশু ওই হাসপাতালের ইনকিউবেটরে আছে। তাদের চিকিৎসা বাবদ প্রতিদিন ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকা করে খরচ হচ্ছে। এত টাকা খরচ বহন করার সামর্থ্য নেই মাদরাসা শিক্ষক মিজানুর রহমানের। এই অবস্থায় দুই নবজাতককে বাঁচাতে দেশের হৃদয়বান মানুষদের প্রতি আকুতি জানিয়েছেন তিনি।
লাকসাম জেনারেল হাসপাতালের গাইনি বিশেষজ্ঞ লতিফা আক্তার বলেন, ওই প্রসূতি নারী সাত মাসের গর্ভবতী ছিলেন। হাসপাতালে আসার পর তার আলট্রাসনোগ্রাফি করা হয়। এতে দেখা গেছে তার পেটে চারটি বাচ্চা আছে। এরপর তাকে স্যালাইন দেয়া হয়। পরে তিনি স্বাভাবিকভাবে একে একে পাঁচটি বাচ্চা প্রসব করেন। ৭ থেকে ১০ মিনিটের ব্যবধানে বাচ্চাগুলো একে একে ভূমিষ্ঠ হয়। কিন্তু তাদের ওজন কম ছিল। ফলে মা ও বাচ্চাগুলোকে উন্নত পরিবেশে ইনকিউবেটরে রাখার পরামর্শ দেয়া হয়।
নবজাতকদের বাবা চৌদ্দগ্রাম নুরানি মাদরাসার শিক্ষক মিজানুর রহমান জানান, এর আগে তার প্রথম সন্তান (ছেলে) দুই বছর আগে মারা যায়। এবার পাঁচ সন্তান হওয়ায় তিনি মহাখুশি হয়েছিলেন। কিন্তু এরই মধ্যে কুমিল্লায় আনার পথে দুইজন এবং ঢাকায় একজন মারা গেছে। এখন দুই নবজাতককে বাঁচাতে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, মাদরাসা থেকে মাসে ছয় হাজার টাকা বেতন পাই। এই টাকায় সংসারই চলে না। এরই মধ্যে সন্তানদের চিকিৎসার পেছনে অনেক টাকা খরচ হয়ে গেছে। বিত্তবানদের সহায়তা পেলে হয়তো দুই সন্তানকে বাঁচাতে পারবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
মিজানুর রহমানের সঙ্গে ০১৮৪৩৩৬৪৩৩৮ মোবাইল নম্বরে যোগাযোগ করা যাবে।
কামাল উদ্দিন/আরএআর/পিআর