‘ঈদুল আজহার ঈদের দ্বিতীয় দিন পটুয়াখালী সদর থানা পুলিশের এক কর্মকর্তা আমার বাসায় আসেন। বাসায় আসার কারণ জানতে চাইলে ৩৮তম বিসিএসে সুপারিশ পাওয়ায় তিনি আমাকে শুভেচ্ছা জানান। এ সময় পুলিশ ভেরিফিকেশনে আমার যেসব কাজগপত্র লাগবে সে সম্পর্কে অবহিত করেন তিনি। বাসায় তখন অন্য স্বজনদের সঙ্গে ওই পুলিশ কর্মকর্তাকেও আপ্যায়ন করি আমরা।’
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) পটুয়াখালী পুলিশ সুপারের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় পুলিশ ভেরিফিকেশনের অভিজ্ঞতার কথা এভাবেই জানান ৩৮তম বিসিএসে প্রশাসন ক্যাডারে নিয়োগের জন্য সুপারিশপ্রাপ্ত মো. নিয়াজ মাখদুম ফয়সাল।
নিয়াজ মাখদুম বলেন, পুলিশ ভেরিফিকেশন শেষে ওই কর্মকর্তা বাসা ত্যাগের পর মা নূরজাহান বেগম আমাকে উদ্দেশ করে বলেন, ফয়সাল দেখ, ঈদের দিন তুই আজ বাসায়। ঈদের ছুটিতে যেখানে অন্য পেশার মানুষ পরিবারের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করছেন, ঠিক সেই সময় পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা নিরলসভাবে মানুষের সেবায় নিয়োজিত রয়েছেন। ঈদের দিন কেউ কেউ রাস্তায় রয়েছেন। এই হলো আমাদের দেশের পুলিশ।’
৩৮তম বিসিএসে নিয়োগের জন্য সুপারিশপ্রাপ্ত নাসির উদ্দীন বলেন, পুলিশ ভেরিফিকেশনের জন্য বাউফল থানায় গেলে ওসি মোস্তাফিজুর রহমান আমাকে মিষ্টি মুখ করিয়ে ফুলের শুভেচ্ছা জানান। পুলিশের এ ধরনের ব্যবহার, আচরণ ও ইতিবাচক কার্যক্রম আমাকে অনুপ্রাণিত করেছে। পুলিশের প্রতি আমার শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা বেড়ে গেছে। পুলিশ ভেরিফিকেশনে এক টাকাও ঘুষ লাগেনি আমাদের।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ৩৮তম বিসিএসে নিয়োগের জন্য পটুয়াখালী জেলা থেকে ২০ জন সুপারিশপ্রাপ্ত হন। এদের অনেকে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় অবস্থান করায় ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও পুলিশ সুপারের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় আসতে পারেননি। তবে তাদের প্রত্যেকের পুলিশ ভেরিফিকেশনের অভিজ্ঞতার বিষয়ে মতামত জানতে চাওয়া হয়।
মতবিনিময় সভা শেষে উপস্থিত সবাইকে ফুলেল শুভেচ্ছাসহ মিষ্টি মুখ করান পটুয়াখালীর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মইনুল হাসান। এ সময় ৩৮তম বিসিএসে নিয়োগের জন্য সুপারিশপ্রাপ্তদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করেন পুলিশ সুপার।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অপরাধ) মাহ্ফুজুর রহমান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মুকিত হাসান ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বাউফল সার্কেল) মো. ফারুক হোসেন।
মহিব্বুল্লাহ চৌধুরী/এএম/জেআইএম